বুধবার
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে হেপাটাইটিস কোন লক্ষণ ছাড়াই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

মানবদেহের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া পরিচালনা এবং ক্ষতিকর টক্সিন অপসারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে লিভারের সার্বিক প্রদাহ বা ক্ষয়ক্ষতিকে 'হেপাটাইটিস' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

যদিও এটি মূলত নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ঘটে থাকে, তবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মদ্যপান, বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব কিংবা অটোইমিউন জটিলতার ফলেও এই রোগ সৃষ্টি হতে পারে।

হেপাটাইটিসের ধরণ, এর ঝুঁকির মাত্রা এবং লিভার সুরক্ষার উপায় সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

হেপাটাইটিস রোগের প্রকারভেদ

ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস প্রধানত ৫ প্রকারের হয়ে থাকে। মেডিকেল সায়েন্সে এদেরকে হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই নামে চিহ্নিত করা হয়:

  • হেপাটাইটিস এ (Hepatitis A): এটি প্রধানত দূষিত পানি এবং বাসি-পচা খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত এটি তীব্র (Acute) হলেও দীর্ঘস্থায়ী (Chronic) হয় না এবং উপযুক্ত চিকিৎসায় রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে।
  • হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B): এটি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ব্যবহৃত ইনজেকশনের সূচ বা অনিয়ন্ত্রিত শারীরিক তরলের (Body fluids) মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া সংক্রমিত মা থেকে সন্তান জন্মদানের সময় এটি ছড়াতে পারে। এটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে।
  • হেপাটাইটিস সি (Hepatitis C): এটি প্রধানত সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। হেপাটাইটিস বি-এর মতো এটিও দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগের একটি বড় কারণ।
  • হেপাটাইটিস ডি (Hepatitis D): এটি কেবল তখনই হতে পারে, যখন কারো শরীরে ইতোমধ্যেই হেপাটাইটিস বি ভাইরাস উপস্থিত থাকে। বি এবং ডি-এর যৌথ সংক্রমণ লিভারের জন্য অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে।
  • হেপাটাইটিস ই (Hepatitis E): হেপাটাইটিস 'এ'-এর মতো এটিও দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

ছবি সংগৃহীত

সবচেয়ে বিপজ্জনক হেপাটাইটিস কোনটি?

মেডিকেল সায়েন্সের দৃষ্টিতে হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B) এবং হেপাটাইটিস সি (Hepatitis C) সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। এর প্রধান কারণ হলো, এই দুটি ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরে কোনো প্রকাশ্য লক্ষণ বা উপসর্গ না দেখিয়ে চুপচাপ লিভারের ক্ষতি করতে থাকে।

দীর্ঘদিন চিকিৎসাহীন থাকলে এ থেকে স্থায়ীভাবে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লিভার সিরোসিস (Liver Cirrhosis) এবং লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) তৈরি হতে পারে।

তবে তাৎক্ষণিক জটিলতার দিক থেকে বিবেচনা করলে, হেপাটাইটিস 'ডি' আক্রান্ত রোগী এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস 'ই' ভাইরাসের সংক্রমণও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

শরীরের জন্য উপকারী কোনো হেপাটাইটিস আছে কি?

না, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কোনো হেপাটাইটিস নেই যা শরীরের জন্য ভালো বা উপকারী। হেপাটাইটিস শব্দের মূল অর্থই হলো লিভারের ক্ষতি বা প্রদাহ। যেকোনো ধরনের হেপাটাইটিসই লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে।

কিছু ক্ষেত্রে (যেমন: হেপাটাইটিস এ বা ই) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজে থেকেই ভাইরাসটিকে দূর করে দেয় এবং স্থায়ী ক্ষতি হয় না- তবে এর অর্থ এই নয় যে সংক্রমণটি শরীরের জন্য কোনোভাবে ভালো ছিল।

সারসংক্ষেপে, হেপাটাইটিস একটি নিরাময়যোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও অসচেতনতার কারণে এটি লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।

সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হেপাটাইটিস 'এ' ও 'বি'-এর প্রতিষেধক টিকা (Vaccine) গ্রহণ, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন অনুসরণের মাধ্যমে এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

সচেতনতাই হেপাটাইটিস প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার; তাই যেকোনো অস্বাভাবিক শারীরিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং লিভারের যত্ন নেওয়া আবশ্যক।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন