

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানবদেহের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া পরিচালনা এবং ক্ষতিকর টক্সিন অপসারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে লিভারের সার্বিক প্রদাহ বা ক্ষয়ক্ষতিকে 'হেপাটাইটিস' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
যদিও এটি মূলত নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ঘটে থাকে, তবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মদ্যপান, বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব কিংবা অটোইমিউন জটিলতার ফলেও এই রোগ সৃষ্টি হতে পারে।
হেপাটাইটিসের ধরণ, এর ঝুঁকির মাত্রা এবং লিভার সুরক্ষার উপায় সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
হেপাটাইটিস রোগের প্রকারভেদ
ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস প্রধানত ৫ প্রকারের হয়ে থাকে। মেডিকেল সায়েন্সে এদেরকে হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই নামে চিহ্নিত করা হয়:
ছবি সংগৃহীত
সবচেয়ে বিপজ্জনক হেপাটাইটিস কোনটি?
মেডিকেল সায়েন্সের দৃষ্টিতে হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B) এবং হেপাটাইটিস সি (Hepatitis C) সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। এর প্রধান কারণ হলো, এই দুটি ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরে কোনো প্রকাশ্য লক্ষণ বা উপসর্গ না দেখিয়ে চুপচাপ লিভারের ক্ষতি করতে থাকে।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাহীন থাকলে এ থেকে স্থায়ীভাবে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লিভার সিরোসিস (Liver Cirrhosis) এবং লিভার ক্যান্সার (Liver Cancer) তৈরি হতে পারে।
তবে তাৎক্ষণিক জটিলতার দিক থেকে বিবেচনা করলে, হেপাটাইটিস 'ডি' আক্রান্ত রোগী এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস 'ই' ভাইরাসের সংক্রমণও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
শরীরের জন্য উপকারী কোনো হেপাটাইটিস আছে কি?
না, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কোনো হেপাটাইটিস নেই যা শরীরের জন্য ভালো বা উপকারী। হেপাটাইটিস শব্দের মূল অর্থই হলো লিভারের ক্ষতি বা প্রদাহ। যেকোনো ধরনের হেপাটাইটিসই লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
কিছু ক্ষেত্রে (যেমন: হেপাটাইটিস এ বা ই) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজে থেকেই ভাইরাসটিকে দূর করে দেয় এবং স্থায়ী ক্ষতি হয় না- তবে এর অর্থ এই নয় যে সংক্রমণটি শরীরের জন্য কোনোভাবে ভালো ছিল।
সারসংক্ষেপে, হেপাটাইটিস একটি নিরাময়যোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও অসচেতনতার কারণে এটি লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হেপাটাইটিস 'এ' ও 'বি'-এর প্রতিষেধক টিকা (Vaccine) গ্রহণ, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন অনুসরণের মাধ্যমে এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
সচেতনতাই হেপাটাইটিস প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার; তাই যেকোনো অস্বাভাবিক শারীরিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং লিভারের যত্ন নেওয়া আবশ্যক।
