

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়- হেপাটাইটিস বি ও সি এমন দুটি ভাইরাস, যেগুলো অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর শরীরে থেকে ধীরে ধীরে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই এগুলোকে বলা হয় লিভারের নীরব ঘাতক।
বাংলাদেশের গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সচেতনতার অভাব, অনিয়ন্ত্রিত সেলুন সার্ভিস, অনিরাপদ ইনজেকশনের ব্যবহার এবং মানহীন ডেন্টাল ক্লিনিকে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ছাড়া চিকিৎসা- এসব কারণে অলক্ষিতভাবেই ছড়িয়ে পড়ছে এই প্রাণঘাতী রোগ।
তাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সময়মতো পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
সংক্রমণের প্রধান ঝুঁকিসমূহ
গ্রামাঞ্চলের স্থানীয় সেলুনগুলোতে একই খুর বা ব্লেড বারবার ব্যবহার করার প্রবণতা হেপাটাইটিস ছড়ানোর অন্যতম প্রধান পথ। দাড়ি কাটার সময় বা চুল ছাঁটার পর ত্বকে তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম কেটে যাওয়া অংশ দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির সংক্রামিত রক্ত অন্য সুস্থ ব্যক্তির রক্তপ্রবাহে খুব সহজেই প্রবেশ করে।
একইভাবে, রক্ত পরীক্ষার সঠিক স্ক্রিনিং ছাড়া অন্যের শরীরে রক্ত দেওয়া কিংবা একবার ব্যবহৃত সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহার করাও ভাইরাসের দ্রুত বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া গ্রামীণ হাটে-বাজারে গড়ে ওঠা অননুমোদিত ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত (Sterilize) না করেই রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি রক্ত ও লালার সংস্পর্শে এসে সংক্রমণ ছড়ায়।
প্রতিরোধমূলক সতর্কতা ও করণীয়
এই মারাত্মক বিপর্যয় রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সেলুন বা বিউটি পার্লারে প্রতিবার সেভের জন্য নতুন ডিসপোজেবল ব্লেড ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং সম্ভব হলে নিজস্ব শেভিং কিট সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
যেকোনো চিকিৎসা বা ইনজেকশনের ক্ষেত্রে 'একবার ব্যবহারযোগ্য' (Disposable) সিরিঞ্জ নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত ও মানসম্পন্ন হাসপাতাল ছাড়া রক্ত সঞ্চালন বা দাঁতের চিকিৎসা করানো থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে হেপাটাইটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো 'হেপাটাইটিস বি' ভ্যাকসিন গ্রহণ করাই এই নীরব ঘাতক থেকে সুরক্ষার সর্বোত্তম উপায়।
