

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্ষাকালে চারপাশের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের উপদ্রব নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় তারা সহজেই ডায়েরিয়া, বমি, ফুড পয়জনিং ও পেটের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়।
বিশেষ করে আইসিএমআর (ICMR)-এর মতে, এ সময়ে রোটাভাইরাস, নোরোভাইরাস এবং ৫ থেকে ১০ বছর বয়সীদের মধ্যে 'হিউম্যান অ্যাডিনোভাইরাস-এফ'-এর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়।
এই বর্ষায় আপনার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন এবং কীভাবে তাদের যত্ন নেবেন, তা হলো:
বর্ষায় যে খাবারগুলো শিশুদের দেওয়া যাবে না-
রাস্তার কাটা ফল ও রঙিন শরবত: খোলা অবস্থায় রাখা ফল বা শরবতে সহজেই ই-কোলাই ও সালমোনেল্লা ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়। এর থেকে টাইফয়েড, জন্ডিস বা ডায়রিয়া হতে পারে।
অর্ধসিদ্ধ ডিম বা মাংস: এই সময়ে ডিম ও মাংসে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেশি থাকে। তাই হাফ-বয়েল ডিম, কম রান্না করা মাংস বা দোকানের ফ্রোজেন ও প্রক্রিয়াজাত খাবার একদম দেবেন না।
সামুদ্রিক মাছ ও কাঁকড়া: বর্ষায় চিংড়ি, কাঁকড়া বা সামুদ্রিক মাছে বিষাক্ত টক্সিন জমতে পারে। দীর্ঘদিন ফ্রিজে থাকা সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
কাঁচা সালাদ ও পাতাজাতীয় সবজি: বাঁধাকপি, লেটুস বা পালংশাকে ফিতাকৃমির ডিম বা ছত্রাক থাকতে পারে, যা শুধু পানিতে ধুলে মরে না। তাই এ সময়ে কাঁচা সালাদ দেওয়া বন্ধ রাখুন।
প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: চিপস, কুকিজের পাশাপাশি সসেজ, নাগেটস বা সালামির মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস শিশুদের হজমে সমস্যা ও পেটের সংক্রমণ তৈরি করে।
কার্বোনেটেড কোমল পানীয়: কোল্ড ড্রিংকসে থাকা অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম উপাদান শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং হজমে গোলমাল পাকায়।
ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার: ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ফ্রিজে থাকা ভাত, ডাল, তরকারি বা কেক-পাউরুটি শিশুদের দেবেন না। ফ্রিজের খাবার বের করে রাখলে তাতে দ্রুত ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মায়।
বিকল্প হিসেবে যা খাওয়াতে পারেন
ফলের ক্ষেত্রে: স্কুল বা টিফিনে কাটা ফলের বদলে আস্ত ফল (যেমন: কলা, আপেল) দিন। বাজার থেকে আনা ফল কিছুক্ষণ লবণ-পানিতে ভিজিয়ে রেখে, তারপর ভালো করে ধুয়ে খাওয়ান।
সবজির ক্ষেত্রে: কাঁচা সালাদের বদলে সবজি দিয়ে গরম গরম স্যুপ বা স্ট্যু বানিয়ে দিন। আর পাতাজাতীয় সবজি খাওয়াতে হলে তা আগে লবণ-গরম পানি বা ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে ভালো করে ধুয়ে, তারপর উচ্চতাপে রান্না করুন।
মাছের ক্ষেত্রে: সামুদ্রিক মাছের বদলে এই সময়ে তাজা দেশি মাছ বা ছোট মাছ বেছে নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ।
স্ন্যাকসের ক্ষেত্রে: বাইরের চিপস-বিস্কুটের বদলে ঘরে তৈরি ওটস, ডালিয়া, কিনোয়া বা চিঁড়ের স্বাস্থ্যকর খাবার দিন।
পানীয়: কোমল পানীয়র বদলে শিশুকে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি বা ঘরে তৈরি তাজা ফলের রস দিন। খাবার সবসময় টাটকা ও গরম গরম খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।
শিশুর সুরক্ষায় বাড়তি কিছু জরুরি টিপস
বিশুদ্ধ পানি: শিশুকে সবসময় শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করান।
হাত ধোয়ার অভ্যাস: খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পরিচ্ছন্নতা: রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার রাখুন এবং খাবার সবসময় ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন।
বাইরের খাবার বর্জন: বাইরের খোলা বা রাস্তার খাবার খাওয়া থেকে শিশুদের বিরত রাখুন।
সামান্য একটু সচেতনতা আর খাবারের অভ্যাসে একটু পরিবর্তনই এই বর্ষায় আপনার শিশুকে পেটের নানাবিধ সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি সুস্থ রাখতে পারে।

