সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোর বয়সে ব্রণ কেন বেশি হয়? জেনে নিন ঘরোয়া সমাধান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

কিশোর বয়সে ত্বকে ব্রণ ওঠার সমস্যাটি অত্যন্ত স্বাভাবিক, তবে সঠিক পরিচর্যা ও সচেতনতা না থাকলে এটি স্থায়ী দাগ বা খাদের রূপ নিতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও হরমোনাল নানা পরিবর্তনের কারণে ত্বকের গ্রন্থিগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা ব্রণের মূল কারণ।

কিশোর বয়সে ব্রণ কেন বেশি হয়?

বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে নানা ধরনের শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। এই সময় ত্বক ও তৈলগ্রন্থির পরিবর্তনের ফলে ব্রণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

হরমোনের পরিবর্তন

বয়ঃসন্ধিকালে মানবদেহে অ্যান্ড্রোজেন (Androgen) নামক হরমোনের ক্ষরণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই হরমোন ত্বকের নিচে থাকা সেবেসিয়াস বা তৈলগ্রন্থিগুলোকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত তেল উৎপাদন

হরমোনের প্রভাবে সেবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম (Sebum) বা প্রাকৃতিক তেল বেশি উৎপন্ন হয়। এই অতিরিক্ত সেবাম যখন ত্বকের মৃত কোষের সাথে মিশে যায়, তখন ত্বকের লোমকূপ (Pores) বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস বা ব্রণের সৃষ্টি হয়।

ছবি সংগৃহীত

ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি

বন্ধ হয়ে যাওয়া লোমকূপের ভেতরে Cutibacterium acnes (C. acnes) নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে। এই ব্যাকটেরিয়া ত্বকের ভেতরে প্রদাহ বা ইনফেকশন তৈরি করে, যা পরবর্তীতে লালচে, ব্যথাদায়ক ও পুঁজযুক্ত ব্রণে পরিণত হয়।

কোন অভ্যাসে ব্রণ আরও বাড়ে?

প্রতিদিনের কিছু অনিয়ন্ত্রিত বা অসচেতন অভ্যাস ব্রণকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে:

মুখে বারবার হাত দেওয়া

আমাদের হাতে হাজারো অদৃশ্য জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া থাকে। বারবার মুখে হাত দিলে, ব্রণ খোঁটালে বা টিপলে হাত থেকে জীবাণু ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রদাহ বেড়ে গিয়ে স্থায়ী দাগ তৈরি হয়।

ঘুম কম হওয়া

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে মানসিক চাপের হরমোন কর্টিসল (Cortisol) বৃদ্ধি পায়। কর্টিসলের মাত্রা বাড়লে ত্বকে তেলের উৎপাদন বেড়ে যায়, যা সরাসরি ব্রণ বাড়াতে সাহায্য করে।

জাঙ্ক ফুড বেশি খাওয়া

অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া, প্রসেসড ফুড এবং কোল্ড ড্রিংকসের মতো উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index) যুক্ত খাবার রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি তৈলগ্রন্থিকে উত্তেজিত করে ব্রণ বাড়িয়ে তোলে।

অপরিষ্কার বালিশের কভার

বালিশের কভারে প্রতিদিনের ধুলোবালি, মৃত কোষ, মাথার তেল ও ব্যাকটেরিয়া জমা হয়। অপরিষ্কার কভারে মুখ রেখে ঘুমালে তা সারারাত ত্বকের সংস্পর্শে এসে ব্রণের সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এনপিবি কোলাজ

কিশোরদের ব্রণ কমানোর উপায়

সঠিক নিয়ম মেনে ত্বকের যত্ন নিলে ব্রণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব:

সঠিক ফেসওয়াশ

ত্বকের ধরন অনুযায়ী দিনে দুইবার (সকালে ও রাতে) মাইল্ড বা স্যালিসিলিক অ্যাসিড (Salicylic Acid) যুক্ত প্রফেশনাল ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। স্যালিসিলিক অ্যাসিড লোমকূপের ভেতর থেকে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কার করে।

ত্বক পরিষ্কার রাখা

বাইরে থেকে এসে বা ঘাম হলে যত দ্রুত সম্ভব মুখ ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন। ত্বক অতিরিক্ত ঘষোঘষি না করে আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে ত্বকের নিজস্ব আর্দ্রতা নষ্ট না হয়।

স্বাস্থ্যকর খাবার

খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, তাজা ফলমূল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও জিংকসমৃদ্ধ খাবার বাড়াতে হবে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মিষ্টি খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

ছবি সংগৃহীত

পর্যাপ্ত পানি পান

প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস (২.৫ থেকে ৩ লিটার) পানি পান করা উচিত। পানি শরীরের টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?

সব ধরনের ব্রণ সাধারণ ঘরোয়া পরিচর্যায় সারে না। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ (Dermatologist)-এর পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • ব্রণের পরিমাণ অনেক বেশি হলে এবং এতে তীব্র ব্যথা বা পুঁজ থাকলে (Nodules/Cysts)।
  • সাধারণ পরিচর্যায় বা তিন থেকে চার সপ্তাহে কোনো উন্নতি না হলে।
  • ব্রণ সেরে যাওয়ার পর ত্বকে গভীর গর্ত (Scars) বা স্থায়ী কালো দাগ পড়ে গেলে।
  • ব্রণের কারণে মানসিক হতাশা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হলে।

ব্রণের সমস্যাটি বয়ঃসন্ধিকালের একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া হলেও সঠিক সময়ে যত্ন না নিলে এটি কিশোর-কিশোরীদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই দুশ্চিন্তা না করে সঠিক জীবনযাত্রা ও ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে পরিকল্পিত চিকিৎসা শুরু করাই ব্রণ থেকে মুক্ত থাকার সেরা ও নিরাপদ উপায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন