

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্রণ দেখলে হাত নিশপিশ করা বা টিপে গলিয়ে ফেলার ইচ্ছাটা খুবই স্বাভাবিক। তবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিউটি স্পটটিকে টিপে দূর করার যে চেষ্টা আমরা করি, তা হিতে বিপরীত হতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ হিতে বিপরীত ফল ডেকে আনে।
ব্রণ ফাটানো কি নিরাপদ?
মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায়, ব্রণ ফাটানো একেবারেই নিরাপদ নয়। ত্বকের নিচে যে অতিরিক্ত সেবাম (Sebum), মৃত কোষ এবং ব্যাকটেরিয়া জমা হয়ে ব্রণ তৈরি হয়, ফাটানোর ফলে তা আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়ে।
আপনি যখন ব্রণে চাপ দেন, তখন কেবল পুঁজ বাইরে আসে না; বরং অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ত্বকের গভীর স্তর বা ডার্মিসে (Dermis) চলে যায়। ফলে ব্রণ নিরাময় হওয়ার বদলে এর স্থায়িত্ব ও তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
ছবি সংগৃহীত
ব্রণ ফাটালে কী কী ক্ষতি হতে পারে?
আঙ্গুল দিয়ে ব্রণ টিপলে বা ফাটলে ত্বকে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে:
সংক্রমণ
আমাদের হাত ও নখে অসংখ্য অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া থাকে। ব্রণ ফাটানোর সময় ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাবলয় (Skin Barrier) ভেঙে যায়। ফলে হাত থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া খোলামেলা ক্ষতে প্রবেশ করে দ্বিতীয়বার তীব্র সংক্রমণের (Secondary Infection) সৃষ্টি করে।
স্থায়ী দাগ
ত্বকের টিস্যু অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বক স্বাভাবিকভাবে নিজেকে মেরামত করতে পারে না। ফলে ত্বকে স্থায়ী গর্ত, খসখসে ভাব বা অ্যাটর্ফিক স্কার (Atrophic Scars) বা আইসপিক স্কার তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে প্রফেশনাল লেজার বা কেমিক্যাল পিলিং ছাড়া দূর করা অসম্ভব।
কালো দাগ (Hyperpigmentation)
ব্রণ ফাটানোর পর ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এর ফলে যে ক্ষত তৈরি হয়, তা শুকালেও সেখানে ডার্ক স্পট বা পোস্ট-ইনফ্লেমেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন (PIH) থেকে যায়। এই কালো দাগগুলো সহজে মেটাতে চায় না এবং মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে।
ছবি সংগৃহীত
প্রদাহ বৃদ্ধি
চাপ দেওয়ার ফলে ত্বকের নিচে থাকা লালচে ভাব, ফোলা ভাব এবং ব্যথা বহুলাংশে বেড়ে যায়। একে ডার্মাটোলজির ভাষায় 'ইনফ্লেমেশন' বলে। চাপ দেওয়ার ফলে একটি ব্রণ থেকে আশেপাশে আরও কয়েকটি নতুন ব্রণ ওঠার প্রবণতা তৈরি হয়।
ভুল করে ব্রণ ফেটে গেলে কী করবেন?
যদি অসাবধানতাবশত বা ভুলবশত ব্রণ ফেটে যায়, তবে তা দ্রুত সামলে নেওয়া জরুরি:
কীভাবে পরিষ্কার করবেন
কী লাগাবেন
কখন ব্রণ ফাটানো যেতে পারে?
সাধারণত কোনো ব্রণই নিজ হাতে ফাটানো উচিত নয়। তবে ব্রণের ধরনভেদে এর নিরাময় প্রক্রিয়া ভিন্ন হয়:
Whitehead
এদের মাথায় একটি স্পষ্ট সাদা পুঁজের মতো ভাব থাকে। সাধারণত এটি ত্বকের উপরিভাগে থাকে। এগুলো ফাটানো অনুচিত, তবে স্টিম নিয়ে একটি জীবাণুমুক্ত কটন বাড দিয়ে আলতো চাপে বের করা যেতে পারে (যদিও না করাই শ্রেয়)।
Blackhead
এগুলো খোলামেলা পোরস বা রোমকূপের মুখ। এগুলো সহজে ফাটানো বা বের করা যায় না। তবে স্যালিসিলিক এসিড (Salicylic Acid) বা সেফ এক্সফোলিয়েটরের সাহায্যে খুব সহজে এগুলো দূর করা সম্ভব।
ছবি সংগৃহীত
Cystic Acne
এগুলো ত্বকের অনেক গভীরে থাকে, দেখতে লালচে, অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও ফোলা হয়। এ ধরনের গভীর ব্রণ ভুলকমেও ফাটানোর চেষ্টা করা যাবে না। এগুলোতে চাপ দিলে ত্বকে মারাত্মক দাগ ও চিরস্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা ১০০%।
ব্রণ না ফাটিয়ে দ্রুত কমানোর উপায়
ত্বকের ক্ষতি না করে ব্রণ দ্রুত নিরাময়ের জন্য আধুনিক কিছু ক্লিনিক্যাল উপাদান ব্যবহার করতে পারেন:
ছবি সংগৃহীত
ব্রণ ত্বকের একটি স্বাভাবিক ও সাময়িক সমস্যা। সাময়িক সৌন্দর্যের জন্য তাড়াহুড়ো করে ব্রণ ফাটালে তা দীর্ঘমেয়াদী দাগ বা গর্তের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সঠিক যত্ন, ধৈর্য এবং প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক স্কিনকেয়ার উপাদান ব্যবহার করাই ব্রণমুক্ত সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার একমাত্র বৈজ্ঞানিক উপায়।