

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


১৯৮৭ সালে আমেরিকার মন্টানা অঙ্গরাজ্যের একটি পশু আশ্রয়কেন্দ্রে একটি অদ্ভুত বিড়ালছানার জন্ম হয়। অন্য ভাইবোনদের লোম সোজা হলেও, এই ছানাটির লোম এবং গোঁফ ছিল অস্বাভাবিক রকমের কোঁকড়ানো।
জেরি নিউম্যান নামের একজন পার্সিয়ান বিড়াল প্রজননকারী এই বিড়ালছানাটিকে দত্তক নেন এবং এর নাম রাখেন "মিস ডিফেস্টো" । তিনি একে একটি কালো পার্সিয়ান বিড়ালের সাথে প্রজনন করান। এর ফলে যে ছয়টি বাচ্চার জন্ম হয়, তার মধ্যে তিনটি বাচ্চার লোম মায়ের মতো কোঁকড়ানো হয়েছিল।
জেরি নিউম্যান তার সৎ বাবার নাম "সেলকার্ক" (Selkirk) অনুসারে এই নতুন জাতটির নামকরণ করেন। এটিই একমাত্র বিড়ালের জাত যার নামকরণ কোনো মানুষের নামানুসারে করা হয়েছে।
জিনগত বৈশিষ্ট্য
অন্যান্য কোঁকড়ানো লোমের বিড়াল (যেমন: ডেভন রেক্স বা কর্নিশ রেক্স) থেকে সেলকার্ক রেক্সের জিনগত পার্থক্য রয়েছে।
সেলকার্ক রেক্সের কোঁকড়ানো লোমের বৈশিষ্ট্যটি একটি Autosomal Dominant বা প্রকট জিনের কারণে ঘটে। এর মানে হলো, মা বা বাবার যেকোনো একজনের এই জিনটি থাকলে সন্তানদের লোম কোঁকড়ানো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শারীরিক গঠন: এরা বেশ শক্তপোক্ত, ভারী হাড়ের এবং পেশিবহুল বিড়াল। এদের গোল মুখ, বড় চোখ এবং গোলগাল গাল থাকে, যা এদের দেখতে একটি জীবন্ত "টেডি বিয়ার" বা ভেড়ার মতো করে তোলে।
কোট বা লোমের ধরন
সেলকার্ক রেক্স দুই ধরনের কোটের হতে পারে:
১. ছোট লোম: এদের লোম ছোট কিন্তু ঘন এবং গুচ্ছ গুচ্ছ কোঁকড়ানো থাকে।
২. লোম: এদের কোঁকড়া ভাব অনেক বেশি স্পষ্ট এবং এদের দেখতে অনেকটা উলের পুতুলের মতো লাগে।
এদের শুধু গায়ের লোমই নয়, এমনকি মুখের গোঁফ এবং কানের ভেতরের লোমও কোঁকড়ানো হয়ে থাকে। জন্মের সময় কোঁকড়া থাকলেও ৪-৫ মাস বয়সে এদের লোম কিছুটা সোজা হয়ে যেতে পারে, তবে ৮-১০ মাস বয়সে আবার স্থায়ীভাবে কোঁকড়া লোম গজায়।
স্বভাব ও আচরণ
স্বভাবের দিক থেকে সেলকার্ক রেক্স অত্যন্ত চমৎকার এবং ঘরের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত। এরা সাধারণত খুব শান্ত, সহনশীল এবং মিষ্টি স্বভাবের হয়। এরা মানুষের কোলে বসতে এবং আদর নিতে খুব পছন্দ করে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি এরা বেশ অনুগত থাকে।
পার্সিয়ান বিড়ালের শান্ত স্বভাবের পাশাপাশি এদের মধ্যে কিছুটা চঞ্চলতা এবং কৌতূহলও থাকে, যা এরা এদের পূর্বপুরুষ 'ব্রিটিশ শর্টহেয়ার' থেকে পেয়েছে।
এরা খুব সামাজিক হওয়ায় ঘরের অন্যান্য কুকুর বা বিড়ালের সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। শিশুদের সাথেও এদের সম্পর্ক খুব ভালো হয়।
যত্ন এবং গ্রুমিং
কোঁকড়ানো লোম দেখে মনে হতে পারে এদের যত্ন নেওয়া খুব কঠিন, তবে কিছু নিয়ম মানলে এটি বেশ সহজ:
ব্রাশ করার নিয়ম: এদের খুব ঘন ঘন ব্রাশ করা উচিত নয়, এতে লোমের স্বাভাবিক কোঁকড়া ভাব বা রিংলেট নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সপ্তাহে ১-২ বার চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে হালকাভাবে আঁচড়ে দিলেই চলে।
গোসল: এদের ত্বক কিছুটা তৈলাক্ত হতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো ভালো। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে হালকা চেপে পানি শুকানো উচিত, জোরে ঘষা যাবে না।
সেলকার্ক রেক্স কেবল তাদের অনন্য "ভেড়ার মতো" চেহারার জন্যই নয়, বরং তাদের অমায়িক ও ভালোবাসাপূর্ণ স্বভাবের কারণেও বিশ্বজুড়ে বিড়ালপ্রেমীদের কাছে একটি অত্যন্ত মূল্যবান এবং প্রিয় জাত। একটি শান্ত, গৃহপালিত এবং আকর্ষণীয় পোষ্য হিসেবে এরা সত্যিই অনন্য।
