

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমান যুগে সম্পর্ক ও বিয়ের প্রচলিত ধারণায় যোগ হয়েছে এক নতুন অধ্যায়, যার নাম ‘সোলোগ্যামি’ বা নিজেকে নিজে বিয়ে করা। নিজের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বজুড়ে অনেকেই এখন এই পথ বেছে নিচ্ছেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লন্ডনের একটি গির্জায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে নিজেকে বিয়ে করেছিলেন সুয়েলেন কেরি। তখন একে জীবনের অন্যতম সেরা আনন্দের দিন দাবি করলেও, এক বছর যেতে না যেতেই সেই সুখের সমাপ্তি ঘটেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কেরি জানান, নিজের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাটাও বেশ চ্যালেঞ্জিং।
সবসময় নিজের কাছে নিখুঁত থাকার মানসিক চাপ এবং একাকীত্ব থেকে মুক্তি পেতে তিনি থেরাপির সাহায্যও নিয়েছিলেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকেই ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অবশ্য এই সিদ্ধান্তের জন্য তার কোনো আফসোস নেই, বরং এটি তাকে নিজেকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে তিনি নতুন কোনো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার জন্য তার মনের দরজা উন্মুক্ত করেছেন।
সোলোগ্যামির ইতিহাস
নিজেকে ভালোবাসার এই রূপ বা নিজগামিতার ধারণাটি পপুলার কালচারে প্রথম নজর কাড়ে ২০০৩ সালে ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ সিরিজের ‘ক্যারি ব্র্যাডশ’ চরিত্রের মাধ্যমে। তবে বাস্তবে এর সূচনা আরও আগে।
১৯৯৩ সালে আমেরিকার লিন্ডা বেকার নিজের ৪০তম জন্মদিনে নিজেকে বিয়ে করে সোলোগ্যামির পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত হন।
এরপর ২০০৩ সালে নেদারল্যান্ডসের চিত্রশিল্পী জেনিফার হোয়েস এবং পরবর্তী সময়ে মডেল ক্রিস গ্যালেরাও নিজেকে বিয়ে করে আলোচনায় আসেন। ক্রিস গ্যালেরাও অবশ্য পরে তার ‘মনের মানুষ’ খুঁজে পাওয়ায় নিজেকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সোলোগ্যামির পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে। সাধারণত শৈশবে চরম অবহেলার শিকার হওয়া কিংবা মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয়ে বড় হওয়া ব্যক্তিদের একাংশের মধ্যে এই ধরনের তীব্র আত্মপ্রেম বা 'নার্সিসিজম' দেখা যায়।
বিশ্বজুড়ে সোলোগ্যামির ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি অদ্ভুত বিষয় নজর কাড়ে- আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা বা নেদারল্যান্ডসের মতো উন্নত দেশে ঘটে যাওয়া সোলোগ্যামির প্রায় সবকটি ঘটনার কেন্দ্রেই রয়েছেন কেবল নারীরা।
তবে কি পুরুষরা আত্মপ্রেমের ক্ষেত্রে পিছিয়ে, নাকি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই মানসিকতার প্রকাশ ভিন্নভাবে ঘটে- তা সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
