বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘​পথকুকুর নিধন নয়, চাই টিকাদান ও নির্বীজন’, রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি নিরাপদ শহর আন্দোলননামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে পথকুকুর নিধনের দাবিতে স্মারকলিপি, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এর বিপরীতে, আগামী ২০ জুন (শনিবার) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রাণিকল্যাণকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ভেটেরিনারি পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

এই মানববন্ধনের মূল ভিত্তি হলো দেশের বিদ্যমান আইন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জনস্বাস্থ্য নীতিমালা। প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯: এই আইনের ধারা ৬ এবং ধারা ৭(১) ও ৭(২) অনুযায়ী, কোনো প্রাণীকে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া, হত্যা করা বা নিষ্ঠুর আচরণের শিকার করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা: ২০১৪ সালের একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতদেশে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন কার্যক্রম বন্ধের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। ফলে আইন ও আদালতের এই নির্দেশনা অমান্য করে কুকুর নিধনের দাবি বা উদ্যোগ গ্রহণ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

দায় আরোপের আইনি ভিত্তি: কোনো কোনো মহল থেকে প্রাণিকল্যাণকর্মী বা প্রাণিপ্রেমীদের বিরুদ্ধে আইনি দায় আরোপের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ আইনগতভাবে ভিত্তিহীন।

বাংলাদেশে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি হলো CNVR (Catch-Neuter-Vaccinate-Release)। এর অর্থ হলো কুকুরকে ধরে নির্বীজন করা, জলাতঙ্কপ্রতিরোধী টিকা প্রদান করা এবং পুনরায় তাকে তার নিজস্ব এলাকায় অবমুক্ত করা।

এই বৈজ্ঞানিক ও মানবিক পদ্ধতির সুফল হিসেবেই গত এক দশকে দেশে জলাতঙ্কজনিত মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, যা সরকার, ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ, প্রাণিকল্যাণ সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের দীর্ঘদিনের যৌথ কার্যক্রমের ফল।

বাস্তব চিত্র অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রাণিপ্রেমী ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিজস্ব উদ্যোগে পথকুকুরের খাদ্য, চিকিৎসা, টিকাদান ও নির্বীজন কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে আসছেন। এর ফলে অধিকাংশ পথকুকুর মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানে অভ্যস্ত এবং শান্ত স্বভাবের। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ওপর ভিত্তি করে সব পথপ্রাণীকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয়।

উপরন্তু, ইসলামের শিক্ষাও প্রাণীর প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও সদাচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং নির্বিচারে প্রাণী নিধন সমর্থন করে না।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্য দেশের সংঘাতপূর্ণ ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে সেগুলোকে বাংলাদেশের ঘটনা দাবি করছে এবং কৃত্রিম আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাণিকল্যাণকর্মী ও সাধারণ প্রাণীপ্রেমীদের উদ্দেশ্য করে ক্রমাগত অবমাননাকর মন্তব্য, আজেবাজে কথাবার্তা এবং সাইবার বুলিং (নিয়মতান্ত্রিক হয়রানি) করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

১. প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কঠোর বাস্তবায়ন।

২. বেওয়ারিশ কুকুর নিধন ও অবৈধ স্থানান্তরের যেকোনো উদ্যোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান।

৩. দেশব্যাপী CNVR (Catch-Neuter-Vaccinate-Release) কার্যক্রম পুনরায় জোরদার করা।

৪. জলাতঙ্ক প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

৫. জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
Czechia VS South Africa
58'
1 - 0
6' Michal Sadílek
World Cup