সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমিকের সঙ্গে ঠাট্টা করাই কাল হলো রিধিকার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা, যেখানে অভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা তার কাছের কয়েকজন বান্ধবীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। আড্ডার একপর্যায়ে মজার ছলে প্রেমিক হাসিবুরকে চমকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক বান্ধবী হাসিবুরকে ফোন করে আশঙ্কাজনক তথ্য দিয়ে জানান যে রিধি ২০টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন এবং তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তবে কথাটি শেষ হতে না হতেই পাশ থেকে রিধির হাসির শব্দ শুনতে পান হাসিবুর।

এই সামান্য মিথ্যা রসিকতাই তাদের সম্পর্কে বড় ধরনের দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়। ঘুমের ওষুধ খাওয়া নিয়ে বানানো এই নাটকের জেরে ফোন রেখেই দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রিধিকা তার বান্ধবী ইশান ও জান্নাতকে শয়নকক্ষ ছেড়ে বসার ঘরে গিয়ে ঘুমানোর অনুরোধ জানান।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের কলহ চরমে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত প্রেমিক হাসিবুরকে ভিডিও কলে যুক্ত রেখেই নিজের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন রিধিকা।

তাকে বাঁচাতে হাসিবুর দ্রুত বাসায় থাকা বান্ধবীদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ঘুমে থাকায় কেউ ফোন ধরেননি। শেষমেশ শেরেবাংলা নগর থেকে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে বসুন্ধরার বাসায় পৌঁছান হাসিবুর।

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে বান্ধবীদের ঘুম ভাঙান হাসিবুর এবং ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রিধিকাকে নিচে নামান।

সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পরপরই হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল থেকে প্রেমিক হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা পুলিশ। রিধিকার মা মনি বেগম বাদী হয়ে হাসিবুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এজাহারে রিধিকার পরিবারের দাবি, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank