

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গুম-খুন, অরাজকতা আর মেগা দুর্নীতির এক ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশ পুনর্গঠনের কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, অবাধ ও ইনক্লুসিভ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস (১৮০ দিন) পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের আমলের নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, আমরা একটি ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করেছি। চারিদিকে ছিল অরাজকতা, নৈরাজ্যের এক ধূসর পরিবেশ। কে কখন গুম হয়ে যাবে, কে কখন অদৃশ্য হবে-তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা লেগেই ছিল। সরকারের ভিন্নমত পোষণ করলেই খাল, নদী বা পুকুর ধারে প্রতিদিন লাশ পাওয়া যেত। একজন সাবেক এমপিকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকারের মধ্যে বিপুল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ৫ আগস্টের পরিবর্তন পেয়েছি।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া লিগ্যাসি রাতারাতি পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে চলে গেল। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক—একটার পর একটা ব্যাংক লোপাট হয়ে গেল। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুটপাট আর মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমরা রূপকথার যেসব গল্প শুনেছি, বিগত আমলে সেগুলোই ছিল অত্যন্ত বাস্তব ও সত্য।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের দ্বিতীয় দিন থেকেই তিনি তার কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছেন। দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ উন্নয়নের গতিতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করলেও, সরকার তা অতিক্রম করে জনগণের স্বস্তি ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা চলছে।
সরকারের স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘মহামারী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে, কিন্তু জনগণের সরকার থাকলে তা মোকাবিলা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার ব্রত। নির্বাচিত সরকার হওয়ার কারণেই প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জনগণের কাছে এই সরকারের জবাবদিহিতা রয়েছে পার্লামেন্ট এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে। আজকের এই অনুষ্ঠানটি সেই বৃহত্তর জবাবদিহিতারই একটি অংশ।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রেস উইংয়ের সদস্যগণ।


