

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল এখন অনুমোদনের অপেক্ষায়। সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে পে স্কেল ঘোষণার পথও খুলে যাবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটি। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়ন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে নিয়মিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ২৬ জুলাই অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীকে নবম পে স্কেল নিয়ে অবহিত করে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহদী আমিনও জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে তৈরি নতুন বেতন কাঠামো অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে।
এর এক দিন আগেও একই ধরনের আশাবাদ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেছিলেন, পে স্কেল এখন সরকারের বিবেচনায় রয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো সময় এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দায়িত্ব ছিল সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ করা।
এর আগে অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশনের সুপারিশে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ওপরই নির্ভর করছে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ। অনুমোদন মিললে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম পে স্কেল ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।


