

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পর্দায় যাকে দর্শকেরা খলনায়ক হিসেবে চিনতেন, বাস্তবে সেই আশরাফুল হক (ডন) ছিলেন ঢালিউড সুপারস্টার সালমান শাহর ছায়ার মতো- এক পরম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কাজের ফাঁকে কিংবা শুটিং শেষে প্রায় প্রতি রাতেই দুজনে ভেসে যেতেন গন্তব্যহীন লং ড্রাইভে।
কখনো গুলশানের কোনো সাধারণ দোকানে আড্ডা আর প্রিয় মিল্কশেকের কাপে চুমুক দেওয়া, আবার কখনো উত্তরার ফুটপাতে এক বৃদ্ধা 'নানি'র হাতে বানানো চিতই পিঠার আসর- সবখানেই ছিল তাদের অবাধ যাতায়াত।
সালমান যেমন ছিলেন দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে ভালোবাসতেন, তেমনি সাধারণ মানুষের প্রতি তার মনটাও ছিল দরদী ও উদার, চার-পাঁচ টাকার পিঠা খেয়েও এক লহমায় ৫০০ টাকার নোট বাড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করতেন না।
কিন্তু তিন দশক পর সেই মধুর স্মৃতির পাতায় আজ গাঢ় কালো ছায়া। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র সাড়ে তিন বছরের জমকালো কেরিয়ারে ২৭টি সিনেমা উপহার দিয়ে চলে যাওয়া চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমনের (সালমান শাহ) মৃত্যুর সেই রহস্য আজও মেটেনি।
এতদিন ধরে চলে আসা সেই হত্যা মামলাতেই হঠাৎ নতুন মোড় এসেছে- রোববার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি ডন।
বিকেলে সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ডনের চেহারায় ছিল ক্ষোভের ছাপ, তবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। সালমান শাহর মৃত্যুর ছায়া আর বন্ধুত্বের স্মৃতি- দুই যুগ পর আবার মুখোমুখি এসে দাঁড়াল আদালতের সেই বিষণ্ণ আলো-আঁধারিতে।

