রবিবার
২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে ইরফানের মৃত্যু ঘিরে রহস্য, তদন্তের দাবিতে বুয়েটে মানববন্ধন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অটোপসি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় বুয়েট শহীদ মিনারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ইরফানের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

ইরফান বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে তিনি সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।

পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে নিজ বাসা থেকে ইরফানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্ট্যানফোর্ড মেডিকেল সেন্টারের আইসিইউতে প্রায় নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

ইরফানের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হলেও ওই সকালের ঘটনাপ্রবাহ ও সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার পরিবার ও বন্ধুরা। তাদের দাবি, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে ইরফান একটি অনলাইন প্রেজেন্টেশন করেন। এরপর সকাল ১০টা ২ মিনিটে তার মোবাইল ফোন থেকে কর্মস্থলে বার্তা পাঠিয়ে স্ত্রীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ছুটি চাওয়া হয়। এর প্রায় ২০ মিনিট পর সকাল ১০টা ২২ মিনিটে তার বাসা থেকে ৯১১-এ ফোন করা হয়। ফোনে আত্মহত্যার ঘটনা জানানো হয়েছিল। ওই সময় ইরফানের স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা বাসায় ছিলেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, এই সময়ের মধ্যে কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ইরফানের মস্তিষ্কে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছিল, যার ফলে গুরুতর ক্ষতি হয়।

মৃত্যুর পর ইরফানের মরদেহ প্রথমে করোনারের কার্যালয়ে নেওয়া হলেও সেখানে শুধু বাহ্যিক পরীক্ষা করা হয়েছে বলে পরিবার দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, এখনো পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক অটোপসি করা হয়নি। বর্তমানে মরদেহ হিমাগারে রয়েছে বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ইরফানের ঘনিষ্ঠ স্বজন ও বন্ধুদের না জানিয়ে দ্রুত দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তার বন্ধুদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হলে জানাজার কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

এসব ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, শারীরিক ও ডিজিটাল আলামত নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার আগেই পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অটোপসি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত ইরফানের পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক অটোপসি করা, মরদেহের হেফাজত তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা এবং ডিজিটাল ফরেনসিকসহ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা।

তারা আরও দাবি করেন, তদন্তে যদি আত্মহত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে কী পরিস্থিতিতে ইরফান এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে এবং কোনো ব্যক্তি দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন