

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের সেই আট শিক্ষার্থীর জটিলতার অবসান হয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপে তাদের ফরম পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। ফলে শনিবার (০৪ জুলাই) থেকে তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
এর আগে বিষয়টি নজরে আসামাত্র শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীর সাথে কথা বলে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি ওই আট শিক্ষার্থী। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।
এরপর মন্ত্রী রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন করে শিক্ষা বোর্ড।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা যথাসময়ে বোর্ডে জমা দেননি। ফলে প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নাটোর পুলিশ অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একই সঙ্গে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘটনাটি তদন্তে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে একটি প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় ওই আট শিক্ষার্থীর ওই বিষয়ের ফল কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান বলেছেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থী একটি বিষয়ে অনুপস্থিত থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে নাটোরের এই শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা বোর্ড পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে একই ধরনের আরেক ঘটনায় বগুড়ার সারিয়াকান্দির এক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভুলের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও তার ফরম পূরণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তিনিও শনিবার থেকে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
