

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘এমার্জিং ট্রেন্ডস অ্যান্ড মডার্ন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে টেকনিকস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৫০১ নম্বর হলরুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘এনহ্যান্সমেন্ট অব রিসার্চ ক্যাপাবিলিটিজ অব দ্য ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিওলজি, কমিল্লা ইউনিভার্সিটি থ্রু আর্কিওলজিক্যাল ইনভেস্টিগেশন ইন দ্য গ্রেটার কুমিল্লা রিজিয়ন’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, এফসিএমএ এবং আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিট সাব-প্রজেক্টের এসপিএম ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন।
প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহসান, তুরস্কের মার্দিন আর্টুকলু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু বি. সিদ্দিক এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হিট সাব-প্রজেক্টের এএসপিএম ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান।
প্রশিক্ষণের লক্ষ্য সম্পর্কে আয়োজকরা জানান, বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে ঔপনিবেশিক যুগ পর্যন্ত প্রত্নস্থল শনাক্তকরণ, এসব স্থানের বিস্তৃতি ও বণ্টন নির্ধারণ এবং টেকসই ঐতিহ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আধুনিক ও কার্যকর প্রত্নতাত্ত্বিক মাঠ জরিপ পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের দক্ষতা উন্নয়নও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কুমিল্লার শালবন বিহারসহ আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য একবার নষ্ট হয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। তাই এ বিষয়ে যারা কাজ করেন, তাদেরই এসব ঐতিহ্যের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে। আজকের প্রজন্মের দায়িত্ব হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে রাখা।’
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার বলেন, ‘কুমিল্লা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। মাটির নিচে এখনো অনেক সম্পদ অনাবিষ্কৃত রয়েছে। এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের গবেষণা কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। আমরা আশা করি, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সুফল রাষ্ট্র ও সমাজও পাবে।’
আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রত্নস্থল শনাক্তকরণ, সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এ গবেষণা কার্যক্রম নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।


