

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও প্রত্যয়ের সন্ধ্যা' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু। প্রধান আলোচক ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাভার-আশুলিয়ার মানুষের ভূমিকা দেশজুড়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে এবং এই আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়। শহীদদের আত্মত্যাগকে দলীয়ভাবে ভাগ করার সুযোগ নেই। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ ছাত্রদলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংগঠনটি ইতিবাচক ধারার ছাত্ররাজনীতি চর্চা করছে। অতীতের দমন-পীড়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু মেধাবী হলেই হবে না, নৈতিকভাবে আলোকিত মানুষ হতে হবে। মাইক্রোফোনে যা বলি, বাস্তব জীবনেও তার চর্চা করতে হবে।’ উপাচার্য আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে হবে, যারা দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের কোনো মাস্টারমাইন্ড ছিল না। এ আন্দোলনের প্রকৃত শক্তি ছিল দেশের ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্রদল ইতিবাচক, সহাবস্থানভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কোনো ধরনের হল দখল, গেস্টরুম সংস্কৃতি, সহিংসতা বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ছাত্রদল সমর্থন করে না।’ ইয়াহইয়া আরও বলেন, ‘অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, গালিগালাজ ও মব সংস্কৃতি পরিহার করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বহুত্ববাদী ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে।’ সভাপতির বক্তব্যে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ছাত্রদল গণরুম, গেস্টরুম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’ এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জাবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাসহ সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।