

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর দক্ষিণখানে নিজ বাসায় মাহবুব আরা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে আবু তালহা সজিব নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নিহতের দূরসম্পর্কের নাতি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে দক্ষিণখানের গাওয়াইর নবীন সংঘ রোডের একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন সকালে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান মামুন বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয় এবং অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত মাহবুব আরা বেগম দক্ষিণখান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গ্রেপ্তার আবু তালহা সজিবের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায়। তিনি দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার সময় অভিযুক্তকে বৃদ্ধার শয়নকক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফুটেজের ভিত্তিতেই তাকে শনাক্ত করা হয়।
নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান মামুন বলেন, গভীর রাতে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগে মায়ের কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনদের সেখানে পাঠান। তারা গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মামলা দায়েরের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবুল হোসাইন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে হত্যার সম্ভাব্য কারণ ও অন্যান্য তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।