

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস–সংকট চলছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২০০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী। নির্ধারিত সময়ে গ্যাস না থাকা, পর্যাপ্ত চাপ না পাওয়া এবং ডাইনিংয়ে রান্না ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খাবার ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশেষ করে সকাল ও রাতের খাবারের সময় গ্যাসের চাপ অনেক কমে যায়। ফলে রান্না করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগে। অনেক সময় গ্যাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের না খেয়েই ক্লাস কিংবা পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ডাইনিং ম্যানেজার মেহেদি হাসান বলেন, “গত সপ্তাহ থেকে কাজী নজরুল ইসলাম হলের ডাইনিংয়ে তীব্র গ্যাস–সংকট চলছে। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ডাইনিং পরিচালনা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ পাইপলাইন ও মিটারের সমস্যার কারণে সময়মতো রান্না করা যাচ্ছে না। এমনকি ফিস্ট মিলের দিনও লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খাবার পেতে সমস্যায় পড়ছেন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ পাইপলাইন দ্রুত মেরামত বা পরিবর্তনের মাধ্যমে নজরুল হলের ডাইনিংয়ে গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হোক। তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে এবং দ্রুত ডাইনিং চালু করা সম্ভব হবে।”
হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন রিদয় বলেন, “নজরুল হলের ডাইনিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত থাকায় নির্ধারিত সময়ে রান্না সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খাবার পরিবেশনেও বিলম্ব হচ্ছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে পড়ছে। পাশাপাশি বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচে খাবার কিনতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, “সমস্যাটি নিয়ে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরকে জানিয়েছি। তারা এসে পরিদর্শন করে জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের আওতার বাইরে। সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবারও প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি পরিদর্শন করবেন। পরে তারা জানিয়েছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে পুরো গ্যাস লাইন পরিবর্তন করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) সবুজ বড়ুয়া বলেন, “গ্যাস–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এটি বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে যে লাইনগুলোতে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ইতোমধ্যে কেনা হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”
বাখরাবাদ গ্যাস স্টেশনের টেকনিশিয়ান মাসুম বলেন, “আমাদের কাছে যেহেতু অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, আমরা গুরুত্বের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।”
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নূরুল করীম চৌধুরী বলেন, “নজরুল হলের গ্যাসের সমস্যার বিষয়ে আমি প্রভোস্টকে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যাটি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আশা করি, দ্রুতই এর সমাধান হবে। এ বিষয়ে উপাচার্য স্যারও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।”