মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ফাইটোকেমিক্যাল ডেটাবেস তৈরির নেতৃত্বে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ফাইটোকেমিক্যাল ডেটাবেস তৈরির নেতৃত্বে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
expand
ফাইটোকেমিক্যাল ডেটাবেস তৈরির নেতৃত্বে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফাইটোকেমিক্যাল ডেটাবেস তৈরি করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। Bangladesh Medicinal Plants and Phytochemicals Database (BMPPD) নামের এই ডেটাবেসে দেশের ৭০০টির বেশি ঔষধি উদ্ভিদের প্রায় ৬৩ হাজার অনন্য ফাইটোকেমিক্যাল যৌগের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই এ ধরনের সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত ডেটাবেস।

বাংলাদেশের প্রথম বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রতিষ্ঠান Dawn of Bioinformatics (DOB)-এর তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই বছরের গবেষণায় এটি তৈরি হয়েছে। গবেষণা উদ্যোগটির নেতৃত্ব দেন নোবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী এস. কে. ফয়সাল আহমেদ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

গবেষণা দলে নোবিপ্রবির আরও তিন শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁরা হলেন—বিজিই বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ইমরানুর রহমান, ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির আলভী এবং ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী প্রমি চৌধুরী বাঁধন।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ফাইটোকেমিক্যাল ডেটাবেস ছিল ভারতের IMPPAT 2.0, যেখানে প্রায় ১৭ হাজার ৯৬৭টি ফাইটোকেমিক্যাল যৌগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন BMPPD-তে প্রায় ৬৩ হাজার অনন্য যৌগ যুক্ত হওয়ায় এটি আকার ও তথ্যসমৃদ্ধতার দিক থেকে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

গবেষকদের মতে, ডেটাবেসটি কম্পিউটারভিত্তিক ওষুধ আবিষ্কার (Computer-Aided Drug Discovery), ইন সিলিকো ড্রাগ ডিজাইন, ফাইটোকেমিক্যাল স্ক্রিনিং এবং এথনোফার্মাকোলজি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভিদজাত রাসায়নিক যৌগের সম্ভাব্য ওষুধি কার্যকারিতা দ্রুত, নির্ভুল ও তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।

বিশ্বের বহু জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উদ্ভিদজাত রাসায়নিক যৌগ থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। বিএমপিপিডিতে সংরক্ষিত ৬৩ হাজারের বেশি বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণাকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করতে সহায়ক হতে পারে।

বর্তমানে দেশের ৪৫টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা ওপেন রিসোর্স হিসেবে এই ডেটাবেস ব্যবহার করছেন। এটি শুধু একটি তথ্যভাণ্ডার নয়; বরং ভবিষ্যতের ড্রাগ ডিসকভারি, ইন সিলিকো ড্রাগ ডিজাইন, ফাইটোকেমিক্যাল গবেষণা এবং এথনোফার্মাকোলজির জন্য একটি শক্তিশালী গবেষণা অবকাঠামো।

এস. কে. ফয়সাল আহমেদ বলেন, “প্রকৃতি শুরু থেকেই যে ভাষায় কথা বলে এসেছে, তারই আধুনিক বৈজ্ঞানিক রূপ হলো বায়োইনফরম্যাটিক্স। বিএমপিপিডির প্রতিটি যৌগের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সম্ভাব্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সম্ভাবনা। দক্ষিণ এশিয়ার ঔষধি ঐতিহ্যকে বায়োইনফরম্যাটিক্সের শক্তিতে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সময় এসেছে, আর সেই যাত্রা বাংলাদেশ থেকেই শুরু হচ্ছে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Ivory Coast VS Norway
Scheduled
30 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup