

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্রেডিট জটিলতায় আটকে গিয়ে চতুর্থ বর্ষ পার করতে পারছে না যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ৪৮ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের স্নাতকের ফলাফল প্রকাশের সময় বিষয়টি নজরে আসে। এতে ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা।
জানা যায়, সিএসই বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে চার বছরের স্নাতকের আটটি সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন। তবে ফলাফল প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্টরা দেখতে পান, শিক্ষার্থীদের সম্পন্নকৃত মোট ক্রেডিট সংখ্যা ১৫৮। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রয়োজন ১৬০ ক্রেডিট। ফলে আটটি সেমিস্টার সফলভাবে সম্পন্ন করলেও শিক্ষার্থীরা ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় দুই ক্রেডিট সংকটে পড়েছেন। ফলশ্রুতিতে সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এতে ভবিষ্যত কর্মজীবন, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য পেশাগত সুযোগের ব্যাপারে সন্ধিহান ঐ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে শিক্ষার্থীরা।
সিএসই বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেন, “গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন নিয়ে দুই মাস আগে পোস্ট দিয়েছিলাম। প্রশাসনিক ভবন থেকে আমাদের ফলাফল ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখন শুনি আরও ২ ক্রেডিট বাকি। এখন বুঝতে পারছি না, এই ক্রেডিট পূরণের জন্য আবার ক্লাস করতে হবে কি না। অথচ আমরা গত বছরের নভেম্বরে পরীক্ষা শেষ করতে চেয়েছিলাম। এতেও নাকি রুলস রেগুলেশন, সেমিস্টার একটা বেড়ে গেলে রুলস কই থেকে বানাবে। রুলস শুল্ড সার্ভ হিউম্যানিটি, নট কন্ট্রোল ইট।” এছাড়া এ বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে সিএসই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
ক্রেডিট জটিলতা নিয়ে সিএসই বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোঃ কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই সমস্যাটি শুধুমাত্র ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হয়েছে। তাদের আগে বা পরের কোনো ব্যাচে এমন জটিলতা দেখা যায়নি। সিএসই বিভাগের একাডেমিক কারিকুলামে ৪র্থ বর্ষে ৬ ক্রেডিটের একটি ইন্টার্নশিপ থাকে যা হিসাব করলে স্নাতকে মোট ক্রেডিট ১৬১ হয়, পরবর্তীতে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে উক্ত ইন্টার্নশিপ ক্রেডিট কমিয়ে ৩ ক্রেডিট করা হয়। ফলে মোট ক্রেডিট ১৫৮ ক্রেডিট হয়ে দাঁড়ায় যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। কারণ প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে আলাদা পরীক্ষা কমিটি করা হয়, এতে কোন শিক্ষাবর্ষে কত ক্রেডিট অর্জন হয়েছে তা অন্য শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির অজানা। তবে মাননীয় উপাচার্য স্যারের সাথে আলোচনা করে আমরা খুব শীঘ্রই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন বলে জানান। এছাড়া তাকে এখনো অফিশিয়ালি কোন কিছু জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, একাডেমিক ক্যালেন্ডারের নিয়মানুযায়ী সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও তা মানছেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগ। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।