

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিতকরণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনরা অংশ নিয়ে ক্যাম্পাসে সহনশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) মঞ্চ ২৪-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী। তিনি বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্চ ২৪ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে -এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
ফাহিম ফারুকী আরও বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাইয়ের যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে কোনোভাবেই ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।” একই সঙ্গে তিনি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার অনৈক্যকে ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার শিক্ষাঙ্গনে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি আগেও হতো, এখনও হয়; আগে করত অনার্স পাস, এখন করে এইট পাস।” ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি এ ধরনের মুক্ত আলোচনা নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে রাকসুর ভিপি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমি বুঝি না কেন আমাদের মধ্যে এত অনৈক্য তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে তো আমরা একসঙ্গেই ছিলাম।” তিনি শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মত দেন তারা।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষার্থীবান্ধব, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল ক্যাম্পাস গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা নিয়ে ভবিষ্যতেও এমন মুক্ত আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।