

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমর্থিত 'একাডেমিক গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্ট' (এজাইল) প্রকল্পের আওতায় ‘সাংবাদিকতায় চাপ ও ট্রমা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কোর্স বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে কোর্সটি যৌথভাবে নকশা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভাগটিকে দুই বছরে মোট ৫ হাজার ইউরো অর্থসহায়তা প্রদান করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোর্সটির একাডেমিক সহায়তা, পাঠ্য-উপকরণ এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করবে সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশে এই উদ্যোগের সমন্বয় করছে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষকদের নেটওয়ার্ক 'কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস’ নেটওয়ার্ক' (সিজেইএন)।
এই কোর্সের মূল লক্ষ্য হলো সংকট, দুর্যোগ, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা ট্রমা-সংশ্লিষ্ট ঘটনা কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের যে মানসিক চাপ ও মানসিক আঘাতের মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত ও সক্ষম করে তোলা।
এ বিষয়ে সিজেইএন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর উপ-উপাচার্য ড. জুড উইলিয়াম জেনিলো বলেন, “বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশা মানেই চাপ, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা সহিংসতা, দুর্ঘটনা, শোক ও ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পাশাপাশি অনলাইন হয়রানি, মামলা-জটিলতা ও নিরাপত্তাহীনতার মতো সমস্যাও মোকাবিলা করতে হয়। অথচ এই মানসিক চাপ সামলানোর কৌশল আমাদের পাঠ্যক্রমে খুব কমই আলোচিত।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু খবর সংগ্রহ শেখালেই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিত থাকার কৌশল, ভুক্তভোগীর প্রতি সংবেদনশীলতা, ট্রমা সংশ্লিষ্ট কাজের পর নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে সহায়তা চাইবার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এই উদ্যোগ সাংবাদিকতা শিক্ষার একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ফান্ড প্রাপ্তি প্রসঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, “এই প্রকল্পটি পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সাংবাদিকতায় ট্রমা ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এ উদ্যোগটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষা ও পেশাগত সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
তিনি বলেন, “প্রকল্পের লক্ষ্য ও রূপরেখা অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক শেখার মাধ্যমে সাংবাদিকদের মানসিক সুস্থতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই।”
জানা গেছে, অনুদানটি দুই কিস্তিতে প্রদান করা হবে। প্রথমবার কোর্স বাস্তবায়নের পর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, শেখার অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে কোর্সটি পরিমার্জন করে পুনরায় চালুর সুযোগ থাকবে। এতে ধাপে ধাপে কোর্সের মান উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়াও এজাইল প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলো যৌথভাবে এই কোর্সটি নকশা ও বাস্তবায়ন করবে বলে জানা যায়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, এজাইল প্রকল্পটি ২০২৫ থেকে ২০২৮ মেয়াদে পরিচালিত একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
