বুধবার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে জোড়া মুকুট জয় করল বাংলাদেশের আফিয়া

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে জোড়া মুকুট জয় করল বাংলাদেশের ৮ বছর বয়সী আফিয়া
expand

মাত্র ৮ বছর বয়স, অথচ হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চে নিজের নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশের খুদে শিক্ষার্থী আরশি আমিন আফিয়া (ডাকনাম আফিয়া)।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধা, একাগ্রতা ও গাণিতিক দক্ষতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সে। বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াড’-এ বিশ্বের ১২টি দেশের সহস্রাধিক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সে একইসঙ্গে অর্জন করেছে প্রতিযোগিতার দুটি সর্বোচ্চ সম্মাননা- ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস’ এবং আসরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ খেতাব ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’। খুদে এই শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম আরও একবার উজ্জ্বল করেছে।

মানসিক গণিত তথা মেন্টাল ম্যাথ, একাগ্রতা এবং মস্তিষ্কের সমন্বিত কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে আয়োজিত হয় এই অলিম্পিয়াড। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খুদে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে নিজেদের মানসিক গণনার দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ পায়, যা গণিতের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি একাগ্রতা ও দ্রুত চিন্তাশক্তি গড়ে তোলার এক অনন্য মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়।

প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে ১২টি দেশ থেকে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এত বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগীর ভিড়েও শুরু থেকেই অসাধারণ নির্ভুলতা ও ক্ষিপ্রতার পরিচয় দেয় আফিয়া। শীর্ষস্থান অধিকার করে সে অর্জন করে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস’ খেতাব- যা তাকে সরাসরি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে দেয়।

তবে আফিয়ার আসল পরীক্ষা যেন অপেক্ষা করছিল চূড়ান্ত পর্বেই। মাত্র পাঁচ মিনিট সময়ের মধ্যে ১০০ থেকে ১৫০টি জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করাই ছিল ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছানো প্রতিযোগীদের জন্য নির্ধারিত সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই অবিশ্বাস্য গতি ও অসাধারণ নির্ভুলতার পরিচয় দেয় আফিয়া, যার ফলাফলে নির্ভুলতার হার দাঁড়ায় ৯৯ শতাংশ। তার এই অভাবনীয় নৈপুণ্য দেখে আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলী মুগ্ধ হন এবং তাকে আসরের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন- যা এই অলিম্পিয়াডের সবচেয়ে বড় সম্মাননা।

প্রতিযোগিতার পরীক্ষা ও ফলাফল আগেই সম্পন্ন হলেও আফিয়ার এই আন্তর্জাতিক অর্জন আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয় সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে। এডুটিউন (EduTune)-এর উদ্যোগে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, ট্রফি, মেডেল ও সনদপত্র।

শুধু শিরোপা জয়ই নয়, এই আসরে অংশ নিয়ে একটি বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টিরও অংশীদার হয়েছে আফিয়া। এই বিরল কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইনফ্লুয়েন্সার বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ (ইনফ্লুয়েন্সের বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস)-এর পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা সনদ (সার্টিফিকেট অফ অপারেশাশন), যা তার এই অসামান্য অর্জনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও একধাপ স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সহজ-সরল ভাষায় আফিয়া বলে, “নিয়মিত অনুশীলন করলে কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে যায়।” ছোট্ট এই কথাতেই যেন ফুটে উঠেছে তার সাফল্যের আসল রহস্য- ধৈর্য, অধ্যবসায় আর নিয়মিত চর্চা।

এমন আন্তর্জাতিক অর্জনের পেছনে সাধারণত থাকে দীর্ঘদিনের নিরলস প্রস্তুতি আর আশপাশের মানুষের নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহ, এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও যা ব্যতিক্রম নয় বলেই মনে হয়। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনাম আরও উজ্জ্বল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।

উল্লেখ্য, অ্যাবাকাসনির্ভর মানসিক গণিত প্রশিক্ষণ বিশ্বজুড়ে শিশুদের একাগ্রতা, স্মৃতিশক্তি ও দ্রুত গণনার দক্ষতা বাড়াতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ও সমাদৃত একটি পদ্ধতি। আফিয়ার এই সাফল্য তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশের খুদে শিক্ষার্থীদের মেধা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

সঠিক পরিচর্যা আর নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দেশের আরও অনেক শিশুই যে ভবিষ্যতে এমন আন্তর্জাতিক সাফল্যের মুখ দেখতে পারে, আফিয়ার এই কৃতিত্ব যেন তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। তার এই অর্জন দেশের খুদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank