

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পরও সন্ধান মেলেনি সাত বছরের এক শিশুর। সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে শিশুটিকে রিকশায় উঠতে দেখা গেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ আগারগাঁও পর্যন্ত রিকশাটির গতিপথ শনাক্ত করতে পারলেও এরপর সেটির আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসার কাছ থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কাফরুল থানার পুলিশ।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে পূর্ব শেওড়াপাড়ায় থাকত। তার বাবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাড়ির কাছেই খেলছিল শিশুটি। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তার কোনো খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, পূর্ব শেওড়াপাড়ার হেলথ ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের একটি গলি থেকে কালো সালোয়ার-কামিজ পরা এক তরুণী শিশুটিকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ফুটেজ দেখে ওই তরুণীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। পুলিশের ধারণা, শিশুটির সঙ্গে ওই নারীর আগে থেকেই পরিচয় থাকতে পারে। কারণ, শিশুটিকে তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই যেতে দেখা গেছে।
পরে ওই তরুণী শিশুটিকে নিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন। বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরপর বিশ্লেষণ করে পুলিশ রিকশাটির অবস্থান আগারগাঁও পর্যন্ত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এরপর রিকশাটি কোন দিকে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, আগারগাঁও মোড়ের কাছাকাছি বিএনপি বস্তি এলাকায়ও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে সন্দেহভাজন ওই তরুণীকে কেউ শনাক্ত করতে পারেননি।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, শুধু সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। শিশুটিকে যে রিকশায় করে নেওয়া হয়েছিল, সেটির সন্ধানে একাধিক পুলিশ দল বিভিন্ন রিকশার গ্যারেজে খোঁজ করেছে। রিকশাটি শনাক্ত করা গেলে শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত রিকশাটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি নতুন করে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং পুলিশের নিজস্ব তথ্যসূত্রের মাধ্যমেও শিশুটির অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে।
শিশুটিকে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কেউ পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেনি। এ ঘটনায় শুক্রবার কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শিশুটির স্বজনেরা।
এর মধ্যে শিশু নিখোঁজের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এক দিন থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।
একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো সন্ধান মেলেনি ১ হাজার ৯৭০ জনের।
অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশুকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০।


