

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পক্ষ থেকে তিনটি মেট্রো স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে পার্কিং স্ট্যান্ড স্থাপনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে চরম বিতর্কের মুখে ডিএমটিসিএল। তবে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনে দেখা গেছে, স্টেশনটির গ্রাউন্ড লেভেলে ডিএমটিসিএলের ধার্যকৃত একটি ভাড়ার তালিকার ব্যানার সাঁটানো রয়েছে। এর ইজারাদার মাস্টার এন্টারপ্রাইজ। যেখানে, কার বা জিপ গাড়ির জন্য ২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ টাকা। মটরসাইকেলের জন্য ৩০ টাকা, সাইকেল ১০ টাকা এবং মাইক্রোবাস বা হায়েস গাড়িগুলোর জন্য ৭০ টাকা। এছাড়াও বিশেষ প্যাকেজ হিসেবে মাসিক পার্কিং এর ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) ইজারা দেওয়ার বিষয়টি এনপিবি নিউজকে নিশ্চিত করেন ডিএমটিসিএলের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. ওসমান গনি।
তিনি বলেন, তিনটি স্টেশন ৩ টি প্রতিষ্ঠানের কাছে দুই বছরের চুক্তিতে ইজারা দেওয়া হয়েছে। উত্তরা উত্তরে মাস্টার এন্টারপ্রাইজ, সেন্টারে মাহি ইন্টারন্যাশনাল ও দক্ষিণে ভূমিস লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরে কেউ কোনো প্রকার অর্থ আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসমান গনি বলেন, মেট্রো রেলের যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ডিএমটিসিএল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র এই তিনটি স্টেশনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের জায়গা রয়েছে দেখে পার্কিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া। এতে করে মেট্রো স্টেশনে মানুষের ওঠা-নামার ক্ষেত্রে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি-ঘোড়ার জন্য যে ভোগান্তি পোহাতে হতো তা অনেকাংশেই কমে এসেছে। এবং আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি স্টেশনে সম্পূর্ণরূপে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।
পার্কিং ফি আপনারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইজারাদারদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে পার্কিং ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে কার বা জিপ গাড়ির জন্য ২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা, মটরসাইকেলের জন্য ৩০ টাকা, সাইকেল ১০ টাকা এবং মাইক্রোবাস বা হায়েস গাড়িগুলোর জন্য ৭০ টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার প্রতিষ্ঠান চাইলে এর থেকে কমও রাখতে পারে।
যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ডিএমটিসিএল এর নির্ধারিত জায়গায় পার্কিং এর জায়গা ইজারা দেওয়া হয়েছে। তিনটি স্টেশনে যে খালি জায়গা ছিল সেখানে অটোরিকশা বা অন্যান্য গাড়িতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ওঠা-নামাতে ব্যাপক দুর্ভোগ ছিল। সেই দুর্ভোগ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া।
এদিকে ইজারার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। সাধারণ জনগণের অভিযোগ, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উচিত জনগণের সুবিধার কথা চিন্তা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। পার্কিং ফি এর নামে তারা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনে যাত্রী নিতে আসা এক গাড়ি চালক বলেন, 'পার্কিং ব্যবস্থা চালু করায় ভালো খারাপ দুই রকমই হয়েছে। অনেক সময় জ্যাম এর কারণে গাড়ি রেখে অনেকেই মেট্রো দিয়ে চলাচল করে। এসময় তার সাথে থাকা গাড়িটির নিরাপদ পার্কিং নিয়েও শঙ্কা থাকে। পার্কিং ব্যবস্থায় সেটির সমাধান হয়েছে। তবে খারাপ দিকটি হলো, কেউ স্টেশনগুলোতে যাত্রী নিতে আসলে বা নামাতে আসলে সামান্য কিছু সময়ের ব্যবধানে একপ্রকার জোর করেই পার্কিং ফি আদায়ের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সচেতন দৃষ্টি থাকলে এটি সুন্দর ভাবে পরিচালনা সম্ভব।
এ বিষয়ে মেট্রো রেলের যাত্রীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, যেখানে সারাদিন অটোরিকশা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে সব কটি মেট্রো স্টেশনের নিচের সড়কগুলোতে দীর্ঘ জ্যামের সৃষ্টি করে তাদের জন্য কোনো ফি নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু আমি আপনি ৫ মিনিট অপেক্ষা করলেও আমাদের থেকে ফি আদায় করা হচ্ছে। এটা ডিএমটিসিএলের ভেবে দেখা উচিত। অন্যদিকে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মাস্টার এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি উত্তরা উত্তর, সেন্টার ও দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে কার মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল পার্কিং স্ট্যান্ড স্থাপনের জন্য জায়গা ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞাপন দেয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। বিজ্ঞাপণের ভিত্তিতে মাস্টার এন্টারপ্রাইজ, মাহি ইন্টারন্যাশনাল ও ভুমিস লিমিটেড এ ইজারা পায়।


