

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোরান এলাকার একটি বাসা থেকে সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত সানজিদা আক্তার মারিয়ার ভাই মো. চান মিয়া জানান, আমার বোনের আট মাস আগে বিয়ে হয়। স্বামী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে দক্ষিণ গোরান আলিয়া মাদরাসার পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকতো।
আমার মা সন্ধ্যা থেকে আমার বোনকে ফোন দেয়। অনেকবার কল দেয়ার পরও বোনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে স্বামী সাইফুলকে ফোন দেয়। সাইফুল বাসায় গিয়ে তার মেয়েকে দেখে আসতে বলে।
এরপর আমরা বাসায় গিয়ে দেখি রান্না ঘর সংলগ্ন বারান্দার ফ্লোরে মারিয়া অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। মারিয়ার গলায় একটি দাগও দেখতে পাই। এরপর ৯৯৯-এ কল দেই।
নিহতের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার নয়নাবাদ পোস্টের হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামে। বর্তমানে মারিয়া খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোরান এলাকার আলিয়া মাদরাসার পাশে একটি বাসার নিচতলায় থাকতেন। মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী সাইফুল ফুডপান্ডায় চাকরি করেন। স্বজনরা অভিযোগ করেন, মারিয়াকে তার স্বামী সাইফুল হত্যা করেছে।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসানউল্লাহ জানান, রাতে ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে মারিয়াকে মৃত অবস্থায় বারান্দায় পরে থাকতে দেখি। তার গলায় দাগ আছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই আরও জানান, বিয়ের পর থেকে তাদের পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্বামী সাইফুল স্ত্রী মারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মারিয়ার স্বামী সাইফুলকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খিলগাঁও থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত মারিয়া প্রায় এক বছর আগে সাইফুলকে বিয়ে করেন। তিনি লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং টিউশনি করে পরিবারের খরচে সহায়তা করতেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।