

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আবারও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আর এতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে এক ডলারেরও বেশি বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৮ জুলাই) রাতের মধ্যেই নতুন হামলার হুমকি দেওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দুটি প্রধান বেঞ্চমার্ক গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে গিয়ে পৌঁছায়।
ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি এখন শেষ, তবে তিনি এখনই কোনো পূর্ণাঙ্গ বা পুর্ণ মাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য পর্যবেক্ষণপূর্ব বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবারের সেশন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে থিতু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আরও বেড়ে ব্যালটপ্রতি ৭৯ দশমিক ২৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও আগের সেশনের ৭৩ দশমিক ৫২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেলে ৭৪ দশমিক ৭৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে মূলত তারা ইরানে এই নতুন দফার হামলা শুরু করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান এই মার্কিন হামলাগুলো গত মঙ্গলবারের আক্রমণের চেয়েও অনেক বড় ও ব্যাপক আকারের হবে। এরইমধ্যে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বন্দর আব্বাস, আবু মুসা এবং বুশেহরসহ বিভিন্ন প্রান্তে বিকট বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
মূলত গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা বাতিল করার পর এই নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এমনকি বুধবার তেহরানের পক্ষ থেকে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে জোরালো হামলার দাবি করা হয়, যার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এই যুদ্ধে তেহরানের প্রধান হাতিয়ার হলো হরমুজ প্রণারির নিয়ন্ত্রণ। কারণ সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত মঙ্গলবার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর নৌ কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের জন্য হুমকির ঝুঁকি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে।
