

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত না থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার অতিক্রম করার পরও ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
তেলের দামের এই হঠাৎ উল্লম্ফনের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ারবাজারেও। সোমবার এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই বড় ধরনের পতন দেখা যায়। জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ এক পর্যায়ে ৬ শতাংশের বেশি কমে যায়।
বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের বেশি দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়ে ১১২ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দামে যে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা যাচ্ছে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার মতে, এটি সাময়িক প্রভাব মাত্র। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও। তিনি মনে করেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও এই অস্থিরতা কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে বাজারে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে সোমবার চাপ অব্যাহত ছিল। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৭ শতাংশ নিচে নেমে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও ৭ শতাংশের বেশি কমে যায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২.৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচকও বড় পতনের মুখে পড়ে।
সোমবার সকালে লেনদেন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিক্কেই সূচক নেমে আসে প্রায় ৫২ হাজার পয়েন্টে। একই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকেও ৬ শতাংশের বেশি পতন দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের শেয়ারবাজারেও ৩ শতাংশের বেশি দরপতন হয়।
ওয়াল স্ট্রিটে তখনো লেনদেন শুরু হয়নি, তবে প্রি-মার্কেট তথ্য অনুযায়ী ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে দিন শুরু করতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। জেপিমরগ্যানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বল্প সময়ের জন্য তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে সংঘাত দ্রুত কমে এলে পরে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
মন্তব্য করুন
