

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সংকটে থাকা চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক ও সহযোগী প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আভিভা ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা অফিস আদেশে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ১২ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে একজন করে প্রশাসক এবং দুইজন করে সহযোগী প্রশাসক থাকবেন।
নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দপ্তর থেকে সংযুক্ত করে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এর মাধ্যমে Bank Resolution Department-এর সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের ৯ আগস্ট কর্মদিবস শেষে নিজ নিজ বিভাগ/ইউনিট থেকে অবমুক্ত বলে গণ্য করার কথাও বলা হয়েছে।
যে প্রতিষ্ঠানে যারা দায়িত্ব পেলেন
আভিভা ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড
একজন পরিচালক—ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১১ থেকে প্রশাসক
এ.কে.এম. গোলাম বাহারুল—পরিচালক, সহযোগী প্রশাসক
মোঃ মাহবুবুর রহমান—অতিরিক্ত পরিচালক, সহযোগী প্রশাসক
এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
আবু সামা মোঃ আতাউর রহমান—পরিচালক, ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-২, প্রশাসক
একজন অতিরিক্ত পরিচালক—ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্ট-১, সহযোগী প্রশাসক
একজন অতিরিক্ত পরিচালক—বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, সহযোগী প্রশাসক
ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
মোঃ সাদেকুর রহমান—পরিচালক, ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১০, প্রশাসক
সাদরিল আহমেদ—অতিরিক্ত পরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, সহযোগী প্রশাসক
মোঃ আল আমিন—অতিরিক্ত পরিচালক, এসএমইডিপি-২ প্রকল্পের Project Management Unit-এ প্রেষণে, সহযোগী প্রশাসক
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড
মোঃ ইকবাল হোসেন—পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি, প্রশাসক
ফরিদ বিন আহমাদ—অতিরিক্ত পরিচালক, সচিব বিভাগ, সহযোগী প্রশাসক
জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া—অতিরিক্ত পরিচালক, ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-৫, সহযোগী প্রশাসক
কেনো গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে শুধু প্রশাসক নিয়োগ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। চার প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘদিন ধরে অতি উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে সংকটে রয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৯৪ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি।
বিশেষ করে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ।
এ চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং দীর্ঘদিন ধরে পি কে হালদার-কেন্দ্রিক ঋণ অনিয়মের আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে বের করে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
অর্থাৎ, নতুন প্রশাসকরা মূলত ঋণ ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ, সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের মুখোমুখি হচ্ছেন।
এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান Bank Resolution ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন, অবসায়ন বা সম্পদ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে।