

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক নারীকে হত্যার পর তাঁর লাশ টুকরা টুকরা করে পলিথিনে মুড়িয়ে নয়টি প্যাকেটে রাখা হয়েছিল।
শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পেছন থেকে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার হওয়া এক ভাড়াটিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ রোববার বিকেলে বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি ডোবা থেকে ফরিদার খণ্ডিত মাথা ও পায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামের এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার রাত আটটার দিকে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
ওসি বলেন, ফরিদা ইয়াসমিন হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল রাতে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেছেন। মামলায় লাইলী আক্তারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও চারজনের নাম বলেছেন। তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ জানায়, ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। তাঁদের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। এ কারণে ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন। গত ১ আগস্ট লাইলী আক্তার ফরিদার বাড়ির একটি টিনের ঘর ভাড়া নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাইলী আক্তার এর আগেও একটি শিশুহত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে সাত বছর বয়সী ফাহিমা নামের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই ঘটনায় লাইলীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মামলার এজাহার ও তদন্ত–সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি তাঁর বাবা আমির হোসেনের সঙ্গে লাইলী আক্তারের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলেছিল। পরে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তায় ভরে কাচিসাইর পুলের নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ১৪ নভেম্বর বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন লাইলী। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগরে বসবাস শুরু করেন।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত লাশের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তাঁর মাথা ও পায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়।