বৃহস্পতিবার
৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ পিএম আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স
  • ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশি ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারের সুযোগ
  • ভ্রমণ, অনলাইন পেমেন্ট ও রপ্তানিতে মিলবে নতুন সুবিধা

আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর অংশীদারিত্বের সুযোগ দিয়ে নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে বিদেশে অনলাইন পেমেন্ট, ভ্রমণ ব্যয় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন বাংলাদেশি গ্রাহকরা।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ এর পরিচালক হারুন অর রশিদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আধুনিক করা, সেবাখাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করা এবং ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালার আওতায় দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অন্যান্য বৈধ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) বা আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর সুযোগ তৈরি হবে।

এছাড়া বিদেশ ভ্রমণে ট্রাভেল কোটার বৈদেশিক মুদ্রা ডিজিটাল ওয়ালেটে নেওয়া যাবে। ব্যক্তিগত, চিকিৎসা ও সরকারি সফরের ক্ষেত্রে এই সুবিধা মিলবে। ফলে বিদেশে গিয়ে নগদ ডলার বহনের প্রয়োজন কমবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যয় আরও সহজে পরিশোধ করা যাবে।

এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে হোটেল বুকিং, ভিসা প্রসেসিং ফি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ ফি, সফটওয়্যার ও আইটি সেবার বিলসহ অন্যান্য অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট করা যাবে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনলাইন পেমেন্টের সুযোগ থাকবে।

নতুন নীতিমালায় রপ্তানিকারক, ফ্রিল্যান্সার এবং ই-কমার্স খাতের উদ্যোক্তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। তারা বিদেশ থেকে রপ্তানি আয় বৈধভাবে গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবের অর্থ ডিজিটাল ওয়ালেটে স্থানান্তর করে বৈধ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক ব্যয়ও পরিশোধ করা যাবে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট বিদেশি পেমেন্ট সেবা—যেমন পেপ্যাল—চালুর ঘোষণা নয়। বরং আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতাদের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে ধাপে ধাপে এ সেবা চালু করবে।

গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্কুলারে বলা হয়েছে, সব ডিজিটাল ওয়ালেট সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। প্রতিটি লেনদেন রিয়েল-টাইম বা প্রায় রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা আইন, অর্থপাচার প্রতিরোধ (এএমএল), সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (সিএফটি) এবং গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) সংক্রান্ত সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে বিদেশ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন আগের তুলনায় অনেক সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক লেনদেন বাড়ায় দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন