

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নতুন অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেই আশার সঞ্চার করছে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এ খাত। জুলাইয়ের প্রথম পাঁচ দিনে ৫৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর মধ্যে শুধু ৫ জুলাই একদিনেই দেশে এসেছে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ৫ জুলাই তারিখে একদিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ২১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এছাড়া চলতি মাসের ১ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ৫৬৭ মিলিয়ন বা ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১১ মিলিয়ন বা ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে এমন প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের জন্য ইতিবাচক। সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি এবং হুন্ডির পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় রেমিট্যান্সের ধারা শক্তিশালী হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্য রপ্তানির গতি নিম্নমুখী হলেও অর্থনীতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে প্রবাসীদের এই আয়। যা নতুন সরকারের জন্য আশির্বাদ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এনপিবিকে বলেন, রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, আমদানি দায় পরিশোধে চাপ কমবে এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। প্রবাসী আয়ের উপরে ভর করেই ৪৪ মাস পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
সূত্র বলছে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পেয়েছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিকের পরিসংখ্যান সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এই প্রবৃদ্ধি পুরো অর্থবছর ধরে রাখতে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা আরও বাড়ানো এবং হুন্ডি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।