

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও চেয়ারম্যানকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকটির কার্যক্রম নতুনভাবে শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।
সোমবার এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিনের পক্ষ থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের জন্য সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসলামী ব্যাংক ইস্যুটি রাজনৈতিক মাত্রা লাভ করেছিল এবং ব্যাংকটির প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব বিবেচনায় এবিবি ১০ জুন গভর্নরের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আমরা জানিয়েছিলাম, দ্রুত সমাধান ব্যাংকিং খাতের জন্য উপকারী হবে, কারণ ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি আর একটি একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ছিল না; এর প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতে ছড়িয়ে পড়ছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সংলাপ ও ঐকমত্যের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছিলাম। এ প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রায় তিন কোটি গ্রাহক, বিশাল আমানত ও বিনিয়োগভিত্তি, দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা কেবল ব্যাংকটির নিজস্ব বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক জনতা-নির্ভর বিক্ষোভ ব্যাংকটির সুশাসন, তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। আমরা বিশ্বাস করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর করবে।’
বার্তার শেষাংশে বলা হয়, ‘ব্যাংকিং খাতের স্বার্থে আমরা আশা করি, ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন, জবাবদিহি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং পরিবেশ এবং বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে আমরা আশা করি, দেশের সচেতন নাগরিকেরা উপলব্ধি করবেন যে ব্যাংকিং খাতে জনতার প্রভাব বা মব-সংস্কৃতির উপস্থিতি এ শিল্পের জন্য অশনিসংকেত। আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানাই।’
