সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রাষ্ট্রীয় গেজেটে পারিবারিক ছাপ!

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামে তিন ইউনিয়ন

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন কতগুলো ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট করেছে। সম্প্রতি অনুমোদন হওয়া এসব গেজেটে এক তুঘলকি কান্ড ঘটিয়েছে সংস্থাটি। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে দিগন্ত ও সীমান্ত। এদের নামে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিমন্ত্রীর বংশ 'মীর' নামেও শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার মোকামতলায় নতুন ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ ও 'দিগন্ত' নামকরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন নতুন ইউনিয়ন গঠনের গেজেটে বগুড়ার মোকামতলা এলাকায় ‘দিগন্ত', ‘সীমান্ত’ ও 'মীর' নামে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর এসব নাম নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি, ‘সীমান্ত’ নামটি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্তের নামের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। একইভাবে ‘দিগন্ত' নামটি তাঁর আরেক ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সংক্ষিপ্ত বা রূপান্তরিত রূপ বলে অনেকে মনে করছেন। প্রকাশ্য জীবনী তথ্যেও প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নাম সীমান্ত ও দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ‘মীর’ বংশীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নামকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্রশাসনিক ইউনিটের নাম নির্ধারণে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক বা সাংস্কৃতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তি বা পারিবারিক প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জানা যায়, দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত দীগন্ত ইউনিয়নের মৌজাগুলো হলো-ভরিয়া (ভৈরা), মেঘাখর্দ্দ, আলমপুর, রহবল, সাওয়ালদহ, কৃষ্ণপুর, তালিবপুর ও বোয়ালমারী। মোট ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।

পুনর্গঠিত ইউনিয়নসমূহের মধ্যে নবগঠিত স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দীগন্ত ইউনিয়ন, মোকামতলা পৌরসভা এবং শিবগঞ্জ পৌরসভার বর্ধিত অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মৌজাগুলো নিয়ে পাঁচটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করা হয়েছে।

তবে নামকরণের পেছনে প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না কিংবা ইউনিয়নগুলোর নাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম অনুসারে রাখা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। একই বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব এনপিবি নিউজকে বলেন, 'এরকম একটি বিষয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার কিছুটা সত্যতাও আছে। তবে আমার মনে হয় না এখানে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় অবগত আছেন। যদি জানতেন, এ কাজ উনি করতেন না বলেই আমার বিশ্বাস। এমন কাজ ইতিপূর্বে হয়েছে বলেও আমার জানা নেই। খুবই চমৎকৃত হয়েছি ব্যাপারটা শুনে।'

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Spain VS Cape Verde
Scheduled
15 Jun, 10:00 PM
VS
World Cup