

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের চিনিশোধন খাতে কাঁচা চিনি আমদানি সহজ করতে ১০০ শতাংশ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বর্তমানে আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালনায় থাকা আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড (এএমএসআরএল) চিনিশোধন কারখানাটির কাঁচা চিনি আমদানি ও উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা সহজ হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের অনুকূলে ১০০ শতাংশ মার্জিনে এলসি খোলার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।
তবে এ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শর্ত অনুযায়ী, এই এলসির বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি করা যাবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি, আব্দুল মোনেম গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টর হওয়ায় আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে নতুন ঋণসুবিধা ও এলসি খোলার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অথচ চিনিশোধনের জন্য নিয়মিত কাঁচা চিনি আমদানি প্রয়োজন। এই অচলাবস্থা কাটাতেই বাংলাদেশ ব্যাংক সাময়িক এ ছাড় দিয়েছে।
যদিও প্রজ্ঞাপনটি আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের নামে জারি হয়েছে, বাস্তবে এর সুবিধাভোগী হবে আবুল খায়ের গ্রুপ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবুল খায়ের গ্রুপ প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে এবং বর্তমানে তারাই কারখানাটি পরিচালনা করছে। এই কারখানায় উৎপাদিত চিনি এখন ‘স্টারশিপ সুগার’ ব্র্যান্ডে বাজারজাত করা হচ্ছে।
তবে মালিকানা হস্তান্তরের পূর্ণাঙ্গ আইনি ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন না হওয়ায় কাগজে-কলমে কোম্পানিটির নাম এখনো আগের অবস্থাতেই রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে কাঁচা চিনি আমদানির জটিলতা অনেকটাই কমবে এবং দেশের অন্যতম বড় চিনিশোধন কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।