

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভিন্ন এক প্রস্তাব দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দিয়েই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বাজেট নিয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচক হিসেবে এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর। মালয়েশিয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এ প্রকল্প নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।
ফরাসউদ্দিন তার আলোচনায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রবাসীরা প্রথম তিন বছর কোনো রিটার্ন (সুবিধা) পাবেন না। তবে তৃতীয় বছরের পর থেকে তাদের ১২ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে। এই প্রকল্প করতে বিদেশি অর্থের প্রয়োজন নেই। অনেক দেশে সেতু-রাস্তায় এভাবে বিনিয়োগ খুবই লাভজনক বিষয়।’
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ক্লাব আয়োজিত সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরেক আলোচক ছিলেন সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক।
সেমিনারে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বলা হলেও এটা ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, বাজেট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না। তখন ঋণ করতে হবে।
করের স্তর নিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, করের সর্বোচ্চ হার ২০ শতাংশ হওয়া উচিত। এর বেশি হলে মানুষ কর দিতে নিরুৎসাহিত হন। করের হার বাড়িয়ে কর আহরণ বাড়ানোর চিন্তাটা ভুল। বরং তখন মানুষ সম্পদ লুকিয়ে রাখে। এলডিসি উত্তরণ পেছানোর চিন্তাও সঠিক নয় বলে মনে করছেন তিনি। বরং উত্তরণ ঘটিয়ে চ্যালেঞ্জ নেওয়া দরকার ছিল। বাংলাদেশের সেই সক্ষমতা আছে বলে মনে করেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
মূল বক্তব্যে সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিজস্ব অর্থায়ন নিশ্চিত করা বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ। জিডিপির অনুপাতে মাত্র ৮ শতাংশ রাজস্ব আহরণ নিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়। এতে বিদেশি ঋণনির্ভরতা বেড়ে গিয়ে ঋণের ফাঁদে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক বলেন, বাজেটে বেশ কিছু চিন্তাগত পরিবর্তন এসেছে। নিত্যপণ্যে কর কমেছে। তবে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় বাজেটের পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি হ্রাসে যথেষ্ট হবে না। আবার সরকারের পরিবর্তন হলেও আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন হয়নি। এখনো তারা মশা মারতে ফ্লোরিডা যেতে চায়। বাজেট বরাদ্দের চেয়ে বাস্তবায়ন মূল বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।