

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে স্বর্ণ, রুপা, অপরিশোধিত তেল ও তামাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের আচরণে পরিবর্তন আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে রুপার দামে। এক পর্যায়ে রুপার মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
একই সময়ে স্বর্ণ, অপরিশোধিত তেল এবং তামার দাম গড়ে প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বিশ্ববাজারে উত্তেজনা কমিয়েছে।
এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণ ও রুপার প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমে যায় এবং অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে এসব সম্পদ বিক্রি করতে শুরু করেন।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর জানান, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা গেছে। তার মতে, বর্তমান দরপতন মূলত সেই অস্থির বাজার পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর জানান, চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুসহ বিভিন্ন পণ্যে অস্বাভাবিক দামের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। তার মতে, বর্তমান দরপতন মূলত সেই অস্থির বাজার পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে এশীয় লেনদেনে ডলার স্থিতিশীল ছিল। ডলার সূচক দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। শক্তিশালী ডলারের ফলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য পণ্য কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সপ্তাহের শুরুতেও পণ্যের দামে চাপ দেখা দেয়, যখন ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শকে সম্ভাব্য ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়নের ইঙ্গিত দেন। কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কায় ডলার আরও শক্তিশালী হয় এবং সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার আকর্ষণ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের শঙ্কা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। ফলে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
তামার বাজারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের গুদামে মজুত বৃদ্ধির খবরে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। যদিও এর আগে চীন কৌশলগতভাবে তামার মজুত বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছিল।
ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, বাজারে তারল্য কম থাকায় একটি খাতে বিক্রি শুরু হলে তা দ্রুত অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে দরপতন আরও তীব্র হচ্ছে। এর প্রভাব মূল্যবান ধাতু, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং আঞ্চলিক শেয়ারবাজারেও পড়েছে।
তবে অন্যান্য পণ্যের তুলনায় সয়াবিনের দাম বেড়ে দুই মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের মন্তব্য—চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করছে-এই প্রত্যাশায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুতের কারণে লৌহ আকরিকের দামও প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
মন্তব্য করুন

