

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টাঙ্গাইলের সখীপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তারকে(৯) অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত আসামি সাব্বির মিয়া (২১) সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর (উত্তরপাড়া) গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, নিহত সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ফেরার পথে সে অপহরণের শিকার হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি সাব্বির পেছন থেকে সামিয়ার মুখ চেপে ধরে তাকে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
ঘটনার পর আসামি নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস বার্তার মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার একদিন পর ৮ সেপ্টেম্বর ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
রায়ে আদালত সামিয়াকে হত্যার দায়ে সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এছাড়া অপহরণের দায়ে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং লাশ গুমের চেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করার দায়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স)।