সোমবার
১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে বিপর্যস্ত জনজীবন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
expand
টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে বিপর্যস্ত জনজীবন

গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হতাশায় দিন পার করছে নিম্ন আয়ের মানুষ। টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শহরের নিচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যানজট। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।

তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে রয়েছে। আপাতত জেলায় বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

শুক্রবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার পার্ক বাজার, আকুর-টাকুর পাড়া, দক্ষিণ থানাপাড়া, বিশ্বাস বেতকা, সাবালিয়া, কোদালিয়া ও কান্দাপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তা-ঘাট হাঁটু সমান পানিতে ডুবে গেছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোতেও পানি জমে থাকায় রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশ্বাস বেতকার বাসিন্দা নাজমুল মিয়া বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘরে পানি ওঠে। খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো জায়গা নেই। এর মাঝে কারেন্টও নেই। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইল শহরে কাগজ-কলমে ২৭টি খাল থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ খাল প্রভাবশালীদের দখলে। খাল ভরাট করে মার্কেট, বাসা-বাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ করায় শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “সাবালিয়া খাল, শ্যামা বাবুর খাল, কচুয়াডাঙ্গা খালসহ শহরের প্রধান খালগুলো উদ্ধার না করলে প্রতি বছরই এমন জলাবদ্ধতা হবে। এখনই খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে টাঙ্গাইল-ঢাকা ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে। শহরের অটো, রিকশা ও সিএনজি চালকরা যাত্রী পেলেও পানির কারণে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করছেন।

পার্ক বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। ক্রেতাও নেই। গত ৩ দিনে বিক্রি একদম নেই বললেই চলে।”

প্যারাডাইস পাড়ার চা দোকানদার গনেশ চৌহান বলেন, “টানা বৃষ্টিতে দোকানে কাস্টমার নেই বললেই চলে। ফলে আমাদের জীবনযাপন স্থবির হওয়ার পথে।”

বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

টাঙ্গাইল পৌরসভার পক্ষ থেকে জলাবদ্ধ এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় টাঙ্গাইলে ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় টাঙ্গাইলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন জানান, টাঙ্গাইলের কোনো নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত টাঙ্গাইলে বন্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে টানা বৃষ্টিতে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনার তীরে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।

টানা বৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও টাঙ্গাইল শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই মানবসৃষ্ট। খাল দখল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে প্রতি বছরই এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। খাল উদ্ধার ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত টাঙ্গাইলবাসীর এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS Spain
Scheduled
15 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup