শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছয় মাসে ঝরেছে ১৩০ প্রাণ 

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যেন থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, সার্ভিস লেন দখল এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এই মহাসড়কে ১০৮টি ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩০ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৮৩ জন। একই সময়ে টাঙ্গাইল অংশের রেলপথে ট্রেন দুর্ঘটনায় আরও ১৮ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হন। এর মধ্যে গত ২৫ মে কালিহাতী উপজেলায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত ও ৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি ছিল নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভারসা ইউনিয়নে।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন, মার্চে ২৩ জন, এপ্রিলে ২৪ জন, মে মাসে ৩৯ জন এবং জুনে ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। আহতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন, মার্চে ৭ জন, এপ্রিলে ১৮ জন, মে মাসে ৩৬ জন এবং জুনে ৬ জন রয়েছেন।

অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের রেলপথেও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনক। গত ছয় মাসে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ৮ জন, এপ্রিলে ২ জন এবং মে মাসে ৫ জন নিহত হন। তবে জুন মাসে টাঙ্গাইল অংশে কোনো ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্র জানায়, গত ছয় মাসে টাঙ্গাইল ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে ৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান চেকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রহিম, রাফসান জামিল, আরমান শেখ ও সাইফুল্লাহসহ একাধিক চালক জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সার্ভিস লেনে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পার্কিং করে রাখায় মোটরসাইকেল চালকদের বাধ্য হয়ে মূল মহাসড়কে উঠতে হচ্ছে। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এখনো সার্ভিস লেন নির্মাণ হয়নি। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ পড়ে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। দ্রুত এসব প্রতিবন্ধকতা অপসারণের দাবি জানান তারা।

টাঙ্গাইল বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান শফিক বলেন, এই মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী ও উত্তরাঞ্চল থেকে আসা যানবাহনের দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি। তার দাবি, অদক্ষ চালক এবং অতিরিক্ত গতির কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। মহাসড়কের বাঁকগুলোতে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি তুলে না দেওয়া, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup