

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে এবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।
শনিবার (২৬ জুলাই) ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় তিনি জিডি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
জিডিতে বিউটি রাণী পাল অভিযোগ করেন, একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার গান পরিবেশনের ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তার দাবি, ‘আসিফ ইকবাল ইরন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার নামে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ তার নাম ও ভিডিও ব্যবহার করে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা প্রকৃত ঘটনার সঠিক প্রতিফলন নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিডিওটির একটি সংক্ষিপ্ত অংশ প্রাসঙ্গিক তথ্য ছাড়া প্রচার করে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। বিকৃতভাবে উপস্থাপিত ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ফেসবুক পেজ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যার কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন বিউটি রাণী পাল।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, জিডিটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ করা ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্ত করতে সেগুলো আইটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ এবং ‘ইব্রাহিম খলিল’ নামের ফেসবুক আইডির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রধান শিক্ষিকাকে অপমানজনক ও সম্মানহানিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তার ব্যক্তিগত কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নেই এবং বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। ভিডিওটিও এখনো তিনি দেখেননি।
তিনি বলেন, ‘যাদের কাছ থেকে শুনেছি, তারা বলেছেন ভিডিওটিতে কোনো অশ্লীলতা নেই। যদি সত্যিই সেখানে কোনো অশ্লীলতা না থাকে, তাহলে শুধু গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। তবে ভিডিওটি নিজে না দেখে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
উল্লেখ্য, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।


