

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রতিবেশী ১০ বছরের শিশুকে বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়েছিলেন ইব্রাহিম গাজী (৫০)। কিন্তু সেই প্রলোভনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক বীভৎস লালসা। সেই পাশবিকতার দায়ে অবশেষে আইনের সর্বোচ্চ দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে যেতে হলো তাকে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সাতক্ষীরার বিশেষ আদালত ইব্রাহিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ কলারোয়া উপজেলার পারিখুপি গ্রামে তখন নিস্তব্ধ দুপুর। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী শিশুটিকে ডেকে নেয় ইব্রাহিম। ঘরের দরজা বন্ধ করে তার ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন। তবে শিশুটির আর্তচিৎকার আড়াল করতে পারেনি সে। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং ইব্রাহিমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঘটনার পর শিশুর নানী খাদিজা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সেকেন্দার আলী দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ ১৯ জুলাই, ২০২৫ তারিখে চার্জশিট জমা দেন। এরপর ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয় বিচারিক লড়াই।
আজ সোমবার সাতক্ষীরা শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ইব্রাহিম গাজীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাস জেল খাটতে হবে।
এই রায়টি সাতক্ষীরার বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। জেলায় শিশু ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বিশেষ এই ট্রাইব্যুনাল যাত্রা শুরু করে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এটিই এই ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, দ্রুততম সময়ে এই রায় বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা বাড়াবে। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত ইব্রাহিম গাজীকে আদালত থেকে সরাসরি জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।
মন্তব্য করুন