সোমবার
২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ল 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে সাম্প্রতিক এক জাহাজ জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দিনের শুরুতেই তেলের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা যায়।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ আটক করেছে, যেটি তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্যের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৬ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৬ ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১৪ ডলার।

এর আগে গত শুক্রবার বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গিয়েছিল। তখন ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখতে সম্মতি জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দেয়। ফলে উভয় ধরনের তেলের দামই ৯ শতাংশের বেশি কমে যায়।

তবে সোমবার পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি ইরানি জাহাজ জব্দের পাশাপাশি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজে গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

এ ঘটনাকে ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান এবং দ্রুত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফলে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আর্থিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা কঠিন হলেও, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও অনলাইন প্রতিক্রিয়ার কারণে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।

এদিকে, শনিবার ২০টির বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও বাজারে আস্থার সংকট কাটেনি। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আল জাবের জানিয়েছেন, গত ৫০ দিনে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে গেছে। তিনি দ্রুত প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা, আলোচনা স্থগিত থাকা এবং উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে বাজারে ঝুঁকি বাড়ছে। এর প্রভাব হিসেবে তেলের সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন