

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমানকে অপদার্থ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে কালান্দার বাবা হত্যা মামলার প্রধান আসামি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহমেদ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে ওসিকে নিয়ে তিনি তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এমন পোস্ট করেন।
তবে এটি তার নিজের লেখা পোস্ট নয়, তার এডমিন পোস্ট করেছেন বলে দাবি খাজা আহমেদ।
ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে,দৌলতপুর থানার ওসি, জীবনে বিভিন্ন থানায় অন্তত ২০ থেকে ২৫জন ওসির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সারা বাংলাদেশের অন্তত ৫০ জন ওসির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে। এর মত অপদার্থ আর দ্বিতীয়টি দেখিনি। পুরো দৌলতপুরকে আইনের শাসনে অব্যবস্থাপনার মূল কারিগর এ ব্যক্তি। তার মূল চাহিদা টাকা। সে মরা লাশের বিষয়েও টাকা ছাড়া কথা বলে না। আমি এসপি কুষ্টিয়া রেঞ্জ ডিআইজি খুলনা মহোদয়ের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তার এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনাও।
এ ব্যাপারে মুহাম্মদ খাজা আহমেদ জানান, এটি তার নিজের লেখা পোস্ট নয়। এ মুহূর্তে ফেসবুক চালাতে পারছেন না। তার পরামর্শে তারই ছোট ভাই এ পোস্টটি করেছেন।
পীর হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় এমন পোস্ট করেছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,অনেক আগে থেকেই ওসির ব্যাপারে এ ধরনের কথা বলে আসছি। তার বিরুদ্ধে এমন নানা অভিযোগ আসছে। অনেককে রাতের বেলায় তিনি ফোন করে মামলার ভয় দেখাচ্ছেন, টাকা চাচ্ছেন, মামলা তো হতে পারে এখানে খরচ খরচা আছে এমন কথা বলছেন। তাকে এখন পর্যন্ত ভালো লাগেনি তাই এ পোস্টটি করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান,ওই ফেসবুক পোস্টটি তিনি দেখেননি, তবে শুনেছেন। একজন হত্যা মামলার আসামি কি লিখলো, কি লিখলো না সে বিষয়ে তার মন্তব্য নেই বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য,গত শনিবার দুপুরে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে উপজেলার ফিলিপনগরে পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে কালান্দার বাবাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এসময় দরবার শরিফে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালানো হয়। হামলায় তাঁর তিন অনুসারী-মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। ঘটনার তিনদিন নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে প্রধানসহ চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জন আসামি করা হয়। তবে মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মন্তব্য করুন