

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বিরল শারীরিক ত্রুটি নিয়ে এক নবজাতকের জন্ম হয়েছে। শিশুটির দুই হাত ও দুই পা মিলিয়ে মোট ৩০টি আঙুল রয়েছে এবং জন্মগতভাবেই তার মুখে কোনো জিহ্বা নেই।
সোমবার (০৮ জুন) উপজেলার 'ড্রিম এন্ড হেলথ কেয়ার হাসপাতাল'-এ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। বিরল এই শিশুটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে একনজর দেখার জন্য হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সদ্য ভূমিষ্ঠ এই ছেলে শিশুটির এখনো কোনো নাম রাখা হয়নি। শিশুটির বাবা ইসমাইল পালোহন পেশায় একজন সাধারণ শ্রমিক এবং মায়ের নাম জেসমিন আক্তার। তাদের গ্রামের বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মাছুয়া ইউনিয়নের ভোলমারা গ্রামে। ইসমাইল-জেসমিন দম্পতির সংসারে আগে থেকেই তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে, এটি তাদের পঞ্চম সন্তান।
দরিদ্র এই শ্রমিকের পরিবারে এমন বিরল শারীরিক ত্রুটি নিয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করায় পরিবারে যেমন বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি নবজাতকের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান এনপিবি নিউজকে বলেন, "চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে জন্মানোর এই বিষয়টিকে বলা হয় 'পলিড্যাক্টিলিজম' (Polydactylism) বা পলিড্যাক্টাইলি। এটি মূলত জেনেটিক বা জিনগত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে এবং লাখে এক-দুটি শিশুর ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়। সার্জারির মাধ্যমে সাধারণত এই অতিরিক্ত আঙুলগুলো অপসারণ করা সম্ভব।"
তবে চিকিৎসক আরও জানান, আঙুলের সমস্যার চেয়ে শিশুটির জিহ্বা না থাকার বিষয়টি চিকিৎসকদের বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। এটি অত্যন্ত বিরল একটি জটিলতা (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Aglossia বলা হয়)।
জিহ্বা না থাকার কারণে শিশুটির মায়ের বুকের দুধ পান করতে এবং ভবিষ্যতে কথা বলা ও স্বাভাবিক খাবার গ্রহণে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হবে। বর্তমানে তাকে বিকল্প উপায়ে বিশেষ ব্যবস্থায় তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা জেসমিন আক্তার এবং নবজাতক দুজনেই বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। মা সুস্থ থাকলেও শিশুটির বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হচ্ছে।
এদিকে, বিরল এই শিশুর জন্মের খবর মঠবাড়িয়া ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
দরিদ্র পিতা ইসমাইল পালোহন তার এই সদ্যোজাত সন্তানের সুস্থতা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সরকারি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।