বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবেক এমপি মহারাজ, স্ত্রী ও পুত্রের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতি
expand
সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতি

পিরোজপুর–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুরে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। মামলাগুলোর অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মো. মহিউদ্দীন মহারাজ তার নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয় করেন। এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ার এবং দুটি বিলাসবহুল গাড়িসহ প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এতে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।

দুদকের আরেক মামলায় মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তৃতীয় মামলায় তার পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এতে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদক জানিয়েছে, ইফতি একজন ছাত্র হওয়ায় তার নিজস্ব আয়ের উৎস নেই। তার নামে থাকা সম্পদের বড় অংশই মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ আয়ের অর্থ থেকে অর্জিত এবং অবৈধ সম্পদের উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে তার নামে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের পারমিশন পিটিশন নং–০৭/২০২৫ এর আদেশ অনুযায়ী মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী ও পুত্রের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যে ক্রোক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে।

পিরোজপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আরও সম্পদের তথ্য সামনে আসতে পারে। রাজনীতি ও ভুয়া প্রকল্পের আড়ালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ গ্রহণের পর কাজ না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এর আগেও মহিউদ্দীন মহারাজসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক আটটি মামলা দায়ের করেছে। সেসব মামলাও বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন