

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে এক রোগীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে হালিমা খাতুন (৫০) নামে এক রোগী ও তাঁর স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। হাসপাতাল থেকে রোগীর রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ উল্লেখ করে রিপোর্ট দেওয়া হলেও পরে ক্রস-ম্যাচিংয়ের সময় বন্ধন ব্লাড ব্যাংক এবং দেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর রক্তের গ্রুপ এবি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়।
রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনদের অভিযোগ, ডায়াবেটিক হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান নিম্নমুখী এবং অদক্ষ কর্মীদের প্যাথলজি বিভাগে দায়িত্ব দেওয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এতে রোগী ও স্বজনরা অহরহ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতালটি জেলার ডায়াবেটিস রোগীদের অন্যতম ভরসাস্থল। প্রতিদিন এখানে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গত ২ জুলাই নিয়মিত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান হালিমা খাতুন। রক্তস্বল্পতা দেখা দেওয়ায় তিনি চিকিৎসক ডা. নাইমের পরামর্শ নেন। পরে চিকিৎসক তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত গ্রহণের পরামর্শ দেন।
এরপর ৮ জুলাই (বুধবার) সকালে রক্ত গ্রহণের জন্য জেলা শহরের প্রাইম ক্লিনিকে যান হালিমা খাতুন। সেখানে কর্তৃপক্ষ রক্ত দেওয়ার আগে ক্রস-ম্যাচিং করার পরামর্শ দেয়।
পরে বন্ধন ব্লাড ব্যাংক থেকে জানানো হয়, রোগীর রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ নয়, এবি পজিটিভ। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান স্বজনরা। পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা দেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় পরীক্ষা করান। সেখানেও হালিমা খাতুনের রক্তের গ্রুপ এবি পজিটিভ পাওয়া যায়। ফলে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের ভুলের কারণে দিনভর ভোগান্তির শিকার হন রোগী ও তাঁর স্বজনরা। পরে সন্ধ্যায় রোগীকে এবি পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়।
রোগীর মেয়ে শিউলি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মায়ের রক্তের গ্রুপ নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছিলাম। ডায়াবেটিক হাসপাতালের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে যদি রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল হয়, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারত। এই ভুলের কারণে যদি আমার মায়ের কোনো ক্ষতি হতো, তার দায় কে নিত? শুনেছি, এর আগেও এমন ভুল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। রক্তের গ্রুপের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় যদি ভুল হয়, তাহলে অন্য পরীক্ষার রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।"
রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের দায়িত্বে থাকা আবু বাসার রানা বলেন, "আসলে আমার ভুল হয়েছে। তবে আমি সাধারণত সঠিক সেবাই দিয়ে থাকি।" তবে এ বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ সাদেকুজ্জামান সোহেল বলেন, "আসলে এটি কম্পিউটারজনিত ভুল। এ ধরনের ভুল সাধারণত হয় না। তবে ছেলেটি কম বেতনে চাকরি করে, তাকে নিয়ে সংবাদ না করলেও তো হয় ভাই।"
পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের বলেন, "বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। প্রশাসনিক বিষয় আমি একা তদারকি করি না। আপনার কাছে যদি এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র থাকে, তাহলে দিন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, "আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।"
এ বিষয়ে জানতে পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।