

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পঞ্চগড়ে দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজ ছাত্রীকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া সহ আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে আবু হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন মুন্না পঞ্চগড় মহিলা কলেজের একটি কক্ষে সামারি ট্রায়ালে এ আদেশ দেন। আদালতে আসামী হাজির করা হলে বাদীর অভিযোগ, আসামীর স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু হােসেনের বাড়ি পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের ডুডুমারি এলাকায়। তিনি রাজমিস্ত্রীর যোগালি হিসেবে কাজ করতো। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের উত্তর গেটের একটি গলিতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ওই ছাত্রী প্রাইভেট শেষে কলেজের পেছনের চিপা গলি দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। গলির মধ্যে আবু হোসেন তার গতিরোধ করে টাকার বিনিময়ে তার সাথে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করে।
এ সময় ওই কলেজ ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়েকে ওই লোকটা আপত্তিকর আচরণ করায় প্রচন্ড ভয় পেয়েছে। আমি চাই আর কারো সাথে যেন এমন না হয়। মমতাজ বেগম নামে স্থানীয় এক নারী বলেন, আমরা শুনতে পাই এক মেয়ের চিৎকার। পরে আসলে শুনি লোকটা আপত্তিকর আচরণ করেছে ও কথা বলেছে। পরে আমরা তাকে মারধর করি, পুলিশে দেই।
দন্ডপ্রাপ্ত আবু হাসান বলেন, আমি হাসপাতালে ওষুধ নিতে আসি। পরে যাবার পথে আমি শুধু বলেছি আপু ঘুরতে যাবেন? আর কিছু বলিনি। পরে আমি মাফও চেয়েছি। তারপরও আমাকে এতো বড় শাস্তি দেয়া হলো।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই রায় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। যারা এমন ঘৃণ্য কাজ করবে তাদের পরিণতি এমনি হবে।
মন্তব্য করুন