

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় নাজমা আক্তার (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমা আক্তার একই গ্রামের জেলে মো. হক সাবের স্ত্রী। তাঁর আগে দুটি সন্তান ছিল, এবারেরটি হতো তৃতীয় সন্তান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা এমনিতেই পানিতে তলিয়ে ছিল। গত দুই দিন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বুধবার দুপুরে ফের অতিরিক্ত জোয়ারে ইসলামপুর গ্রামের সড়ক ও চলাচলের পথ ডুবে যায়, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
এর মধ্যেই বুধবার সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চারদিকে পানি জমে থাকা এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁকে সময়মতো কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতায় ঘরের ভেতরেই সন্তানসহ তাঁর মৃত্যু হয়।
২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে থাকায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমা আক্তারের মৃত্যু সেই দুর্ভোগেরই করুণ উদাহরণ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, চারপাশে জোয়ারের পানি আর চলাচলের কোনো জায়গা না থাকায় ঘরের ভেতরেই সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় পর্যাপ্ত রাস্তা ও ভালো হাসপাতাল না থাকায় স্থানীয় মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।