সোমবার
০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের শিকার ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
আমান উল্লাহ সাগর
expand
আমান উল্লাহ সাগর

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে মাদ্রাসার ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মেয়েটির মা অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মদন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি একই এলাকার হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে উপজেলার পাঁচহার গ্রামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন আমান উল্লাহ সাগর। একই প্রতিষ্ঠানে তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী শিশুটি এক বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি নানীর কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অভিযুক্ত শিক্ষক জোরপূর্বক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল থেকে তিনি ছুটিতে গিয়ে আর মাদ্রাসায় ফেরেননি।

ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ছোটন বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে ওই ছাত্রী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়, তখনও এই ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলাম না।

তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর আমার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। বর্তমানে সাগর স্ত্রী-সন্তানসহ পলাতক রয়েছেন। এমনকি গ্রামের লোকজন বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ করছেন না।

অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত পাঁচ মাস ধরে ভুক্তভোগীও মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা সিলেট থেকে এসে বিষয়টি জানতে পারেন।

মেয়ের কাছ থেকে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে নিয়ে মদন উপজেলার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের শরণাপন্ন হন।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার বলেন, শিশুটির গর্ভে থাকা ভ্রূণের বয়স ২৭ সপ্তাহের বেশি (প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস)। তার শারীরিক গঠন অত্যন্ত দুর্বল, উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ৮.২ হওয়ায় সে গুরুতর রক্তস্বল্পতায় ভুগছে।

এছাড়া অপুষ্টি ও কৃমিজনিত সমস্যাও রয়েছে। গর্ভস্থ শিশুর মাথার আকার মায়ের পেলভিসের তুলনায় বড় হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় স্বাভাবিক ডেলিভারি প্রায় অসম্ভব এবং সিজারিয়ান অপারেশনও জটিল হতে পারে। শিশুটি মানসিকভাবে ভীত ও ট্রমার মধ্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে মদন থানার (ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন